সিঁড়ি

সিঁড়ি

সিঁড়ি

ডা: পার্থ সাহা

তুমি দাঁড়িয়েছিলে সিঁড়ির বাঁকে, দৃপ্ত চোখে,
যেনো তাকিয়েছিলে বাংলা মায়ের চোখে অবাক বিস্ময়ে,
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি তুমি, সিংহ হৃদয় তোমার,
তোমার অঙ্গুলি হেলনে কতো তপ্ত তাজা প্রাণ
হাসিমুখে ঝাঁপ দিয়েছে স্বাধীনতার কোমল অনলে,
তোমার এক একটি শব্দ লক্ষ্মণ শেলের মতো
বিদীর্ণ করেছে কতো শত শত্রুর বুক, বার বার!
তুমি এসে দাঁড়ালে, সিঁড়ির মোহনায়;
তোমার কতো চেনা সিঁড়ির
ধাপগুলো পেরিয়ে,
মুখোমুখি হলে কিছু মুখোশের,
আড়ালের মুখগুলো হয়তো
ভীষণ চেনা ছিলো তোমার,
হয়তো বা প্রিয়!
তোমার চোখে
চোখ রাখতে পারবে না বলে,
ওরা ঢেকেছিলো ওদের হায়েনা মুখ
কালো মুখোশে!

একটি একটি করে তপ্ত সিসা
ঢুকে যাচ্ছে শরীরে তোমার,
তুমি অবাক হয়ে দেখছো কালো মুখোশগুলোকে
অপার বিস্ময়ে,
যেভাবে দৃষ্টি ছড়িয়ে দিতে
তোমার প্রিয় বাংলায়,
প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে!
তোমার সমুদ্র বুকে একে একে
তৈরি হচ্ছে গভীর খাদ,
যে বুকে তুমি ধারণ করতে
তোমার প্রিয় বাংলাদেশ,
তোমার অস্তিত্ব, তোমার প্রেম,
তোমার তোমাকে!
তুমি দাঁড়িয়েছিলে সিঁড়ির ত্রিকোণ মোহনায়,
অপার বিস্ময়ে, অবচেতনে!
সিঁড়িগুলো ভিজে যাচ্ছে,
তোমার বুকের খাদ থেকে উঠে আসা,
পদ্মা, মেঘনা, গৌড়ী আর যমুনায়।
যে বুকে ধারণ করেছো প্রিয় দেশ,
সেখানে আজ শুধুই লাভা শ্রোত,
উৎসারিত রক্তিম প্রেম ভিজিয়ে দিচ্ছে
মোজাইকের সিঁড়িগুলোকে,
নিখাদ ভালোবাসায়!

তুমি অস্তমিত সুর্যের মতো
আস্তে আস্তে ডুবে গেলে, সিঁড়ির সন্ধিক্ষণে,
শেষবার দেখে নিলে প্রিয় দেশকে, মা-কে!
তুমি ঘুমিয়ে পড়লে নিশ্চিন্ত হয়ে,
সন্তান যেমন ঘুমায় মায়ের কোলে।
সিঁড়িগুলো আজও জেগে আছে
তোমাকে বুকে নিয়ে,
যেমন জেগে আছে বাংলার প্রতিটি ধুলিকণা,
শঠতা আর বিশ্বাসঘাতকতার সাক্ষী হয়ে,
ওরা ঘুমাবে না,

যতদিন শ্বাস নেবে একটি বিশ্বাসঘাতকও,
পৃথিবীর বাতাসে!
ওরা জেগে ছিলো, আজও আছে
তোমাকে বুকে নিয়ে।

Please follow and like us: