সারা দেশে বাস চলেনি

সারা দেশে বাস চলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। বিভিন্ন জেলায় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলার বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাসের দেখা পাননি। জরুরি প্রয়োজনে বেরিয়েও বিফল হয়ে অনেককে বাড়ির পথ ধরতে হয়েছে। কেউ কেউ বিকল্প পথে রওনা হলেও কাউকে কাউকে দেখা গেছে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাসের অপেক্ষায় বসে থাকতে। আন্দোলনের মধ্যে ভাংচুরের কারণে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন। কবে নাগাদ বাস চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে- জানতে চাইলে সঠিক দিনক্ষণ না জানিয়ে তিনি বলেছেন, ছাত্ররা ভাংচুর বন্ধ করুক, বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। জানা গেছে, মূলত দুর্ঘটনায় নরহত্যার জন্য বাসচালক ও তাদের সহকারীদের মৃত্যুদ- ও যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখে যে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন মালিক-শ্রমিকরা। রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষির কারণে দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দাবির মুখে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইনের খসড়াটি পাস করার কথা জানায়। এটি খুব দ্রুতই সংসদে পাস হতে যাচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। খসড়া আইনটিতে ‘দুর্ঘটনার সাজা দ-বিধিতে’ বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে দ-বিধি অনুযায়ী। নরহত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদ-। হত্যা না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদ- হবে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটালে ৩০৪(বি) ধারা অনুযায়ী তিন বছরের কারাদ- হবে। এই প্রস্তাবিত আইনের প্রতিবাদেই গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাস মালিক ও শ্রমিকরা। এ ছাড়া তারা সড়কে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণও দেখিয়েছেন। সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বাস চলাচল বন্ধের ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ফলে পরিবহন সংকটে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। রাজধানী ঢাকায় গতকাল শুক্রবার অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যাত্রীবাহী বাস ছিল না বললেই চলে। সকাল সাড়ে ৮টায় দেখা যায়, সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করছে। ছুটির দিনে সাধারণত বাসের সংখ্যা কম থাকে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার আক্ষরিক অর্থে দু-একটি বাস ছাড়া গণপরিবহন দেখা যায়নি। কিছু পুলিশবাহী যানবাহন দেখা গেছে। এর ফলে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। শত শত মানুষকে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেছে। রাজধানীর রোকেয়া সরণি, মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, প্রগতি সরণি, এলিফ্যান্ট রোড ঘুরে কোনো গণপরিবহন দেখা যায়নি। এদিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পরিবহন সংকটের কারণে বাসযাত্রীরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। সকাল থেকে মহাসড়কে দূরপাল্লা ও লোকাল কোনো বাসই চলাচল করেনি। মহাসড়কের আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, সাভার, নবীনগর, বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে সকাল থেকে যাত্রীদের প্রচ- চাপ দেখা যায়। দেখা যায়, গাড়ি না পেয়ে বাসস্ট্যান্ডেই বসে রয়েছেন যাত্রীরা। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়তে দেখা যায়নি। যাত্রাবাড়ীতে এক দল পরিবহণ শ্রমিককে সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি আটকাতে দেখা গেছে।

Please follow and like us:
0