সাগরে রোহিঙ্গা বহনকারী ট্রলারডুবি, ১৫ লাশ উদ্ধার

সাগরে রোহিঙ্গা বহনকারী ট্রলারডুবি, ১৫ লাশ উদ্ধার

প্রত্যাশা ডেস্ক : কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনের কাছে সাগরে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। দালাল ধরে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টার পথে রোহিঙ্গাদের ওই ট্রলারটি গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সেন্ট মার্টিন থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে দুর্ঘটনায় পড়ে। কোস্ট গার্ড সেন্ট মার্টিন স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৭০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কোস্ট গার্ড সদস্যদের পাশাপাশি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু, বাকিরা নারী। ওই ট্রলারে প্রায় ১০০ জন ছিল বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের একটি বড় দল অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায় গত সোমবার গভীর রাতে টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া থেকে মাছ ধরার দুটি ট্রলারে চেপে রওনা হয়। এর মধ্যে একটি ট্রলার ভোর পৌনে ৬টার দিকে সাগরে দুর্ঘটনায় পড়ে ডুবতে শুরু করলে জেলারা তা দেখে কোস্ট গার্ডকে খবর দেয়। তিনটি স্টেশন থেকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা গিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাদের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজ। কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা নাঈম উল হক বলেন, আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে, তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, ছেঁড়া দ্বীপের কাছে পৌঁছালে ডুবন্ত পাথরে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা অনুসন্ধান চালিয়ে ৭১ জনকে জীবিত এবং ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ট্রলারটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা। কোস্টগার্ড সদস্যদের তৎপরতায় জীবিত উদ্ধার ৭১ যাত্রীর একজন হলেন মো. আবদুল (২৮)। তার দাবি তিনি উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা। আবদুল বলেন, গত সোমবার রাতে ১৩৮ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে টেকনাফের নোয়াখালী পাড়া গ্রাম থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় একটি ট্রলারে নিয়ে যায় দালালেরা। ভোররাতের দিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের দিকে ছেড়া দ্বীপের কাছে পৌঁছালে ট্রলারটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে তলানি ফেঁটে ট্রলারটিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এ সময় দালাল ও মাঝি-মাল্লারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। আবদুল জানান, প্রথমে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানান। সেখান থেকে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানার নম্বর দেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিস্তারিত জানান আব্দুল। এরই সূত্র ধরে শাহপরী ও সেন্টমার্টিন থেকে কোস্টগার্ডের দুটি টিম অনুসন্ধান শুরু করে। তবে কোস্টগার্ডের অনুসন্ধানী দল খুঁজে পাওয়ার আগেই ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা ভাসমান অবস্থায় ১৫টি লাশ উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ১২ জন নারী ও তিনটি শিশু। এ ছাড়া ৭১ জনকে (৪৬ জন নারী, ২১ জন পুরুষ, ৪ শিশু) জীবিত উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। ট্রলার ডুবির পর জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা নারী রাজুমা আক্তার জানান, তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। উন্নত জীবনের আশায় অন্য রোহিঙ্গা সদস্যদের সঙ্গে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে সাগর পাড়ি দিচ্ছিলেন, এ সময় ট্রলারডুবি হয়। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে রাজুমার স্বামী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। ইচ্ছে ছিল তিনি স্বামীর কাছে যাবেন। তবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না। উদ্ধার তৎপরতা বিষয়ে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানা বলেন, ভোর ৫টায় মালয়েশিয়াগামী এক যাত্রী কান্নাকাটি করে ফোন দেন ও বাঁচার আকুতি জানান। আবদুল নামে ওই যাত্রী জানান ১৩৮ জন ট্রলারে করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে ট্রলারটি পাথরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যাচ্ছে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে দুটি অনুসন্ধানী দল কাজে নামে। সকাল ৭টায় ডুবন্ত ট্রলারটিকে খুঁজে পান কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে ৭১ জনকে জীবিত ও ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন তারা। মৃতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় মিলেছে। আর ৫২ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে কাজ করছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা।

Please follow and like us: