মঙ্গল. জুন ১৮, ২০১৯

সম্ভাবনাময় রফতানি খাতে নজর কম

সম্ভাবনাময় রফতানি খাতে নজর কম

Last Updated on

বিশেষ সংবাদদাতা : ক্রমবর্ধমান হারে রফতানি আয় বাড়লেও দেশে পণ্য বহুমুখীকরণের গতি খুবই ধীর। নতুন পণ্যের প্রসারে তেমনভাবে এগিয়ে আসছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে ঘুরে ফিরে কয়েকটি পণ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের রফতানি বাণিজ্য। এমনকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না প্রচলিত বাজারের বাইরে ভিন্ন কোনও বাজার। রফতানি আয়ের ৯০ ভাগই আসছে ৪ ধরনের পণ্য থেকে। এরমধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই আসছে ৮০ ভাগ। বাকি ১০ ভাগ আসছে হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের রফতানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে সরকার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য কতিপয় পণ্যে রফতানি ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ বাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্কবন্ড ও ডিউটি ড্র ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার পরিমাণ ৪ শতাংশ। বস্ত্রখাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা (প্রচলিত নিয়মে) ৪ শতাংশ। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ৪ শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা ২ শতাংশ। নতুন পণ্য বা নতুন বাজার (বস্ত্র খাত) সম্প্রসারণের সহায়তা (আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যতীত) ৩ শতাংশ। হোগলা, খড়, আখের ছোবড়া ইত্যাদি দিয়ে হাতের তৈরি পণ্য রফতানিতে নগদ সহায়তা ১৫ শতাংশ। কৃষিপণ্য (শাকসবজি ও ফলমূল) ও প্রক্রিয়াজাত (এগ্রোপ্রসেসিং) কৃষিপণ্য রফতানি খাতে রফতানি ভর্তুকির পরিমাণ ২০ শতাংশ। হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানিতে রফতানি ভর্তুকির পরিমাণ ১৫ শতাংশ। ১০০ শতাংশ হালাল মাংস রফতানিতে ভর্তুকির পরিমাণ ২০ শতাংশ। হিমায়িত চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ রফতানিতে সহায়তার পরিমাণ (বরফ দ্বারা আচ্ছাদনের ওপর নির্ভরশীল) ২ থেকে ১০ শতাংশ। চামড়াজাত দ্রব্যাদি রফতানিতে নগদ সহায়তার পরিমাণ ১৫ শতাংশ। জাহাজ রফতানিতে সরকারি প্রণোদনার পরিমাণ ১০ শতাংশ। আলু রফতানিতে সরকারি নগদ সহায়তার পরিমাণ ১০ শতাংশ। পেট বোতল ফ্লেক্স রফতানিতে সহায়তার পরিমাণ ১০ শতাংশ। ফার্নিচার রফতানিতে নগদ সহায়তার পরিমাণ ১৫ শতাংশ। প্লাস্টিক দ্রব্য রফতানিতে সহায়তার পরিমাণ ১০ শতাংশ। পাটজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকৃত পাটজাত পণ্য রফতানিতে সহায়তার পরিমাণ ২০ শতাংশ। পাটজাত চূড়ান্ত দ্রব্য (হোসিয়ান, সেকিং ও সিবিসি) পণ্যে নগদ সহায়তার পরিমাণ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পাট সুতা রফতানিতে নগদ সহায়তার পরিমাণ ৫ শতাংশ। সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তরিত শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রফতানিতে সহায়তার পরিমাণ ৫ শতাংশ। গরু মহিষের নাড়িভুঁড়ি, শিং ও রগ (হাড় ব্যতীত) রফতানির ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে পাওয়া নগদ সহায়তার পরিমাণ ১০ শতাংশ। শস্য ও শাক-সবজির বীজ রফতানিতে নগদ সহায়তার পরিমাণ ২০ শতাংশ এবং পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন রফতানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার পরিমাণও ২০ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাকের বাইরে দেশের রফতানি বাড়াতে আরও যেসব পণ্যের রফতানিকে উৎসাহিত করছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশি দামের তৈরি পোশাক ও গার্মেন্ট এক্সেসরিজ, সফটওয়্যার ও আইটি এনাবল সার্ভিসেস এবং আইটি পণ্য, ওষুধ, জাহাজ, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, কৃষিপণ্য ও এগ্রো প্রসেসড পণ্য, আসবাবপত্র, হোম-টেক্সটাইল ও টেরিটাওয়েল, হোম ফার্নিশিং ও লাগেজ। রফতানি বাড়াতে বিশেষ উন্নয়নমূলক খাত হিসেবে চিহ্নিত ১৪ পণ্য হচ্ছে- বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ইলেক্ট্রনিক ও ইলেক্ট্রনিক পণ্য, সিরামিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য (অটো পার্টস ও বাইসাইকেলসহ), মূল্য সংযোজিত হিমায়িত মৎস্য, পাঁপড়, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, অমসৃণ হীরা ও জুয়েলারি, পেপার ও পেপার প্রোডাক্টস, রবার, রেশমসামগ্রী, হস্ত ও কারুপণ্য, লুঙ্গিসহ তাঁতশিল্পজাত পণ্য ও নারিকেলের ছোবড়া। এছাড়াও সিরামিক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, আসবাবপত্র, গরু-মহিষের হাড়, নারিকেলের ছোবড়া, আইটি পণ্য, কুইচ্চা মাছ, শাকসবজি, হালাল মাংস ইত্যাদিকে বলা হচ্ছে বিশেষ উন্নয়নমূলক খাত। তবে এসব খাতে সরকার নগদ সহায়তা দিচ্ছে না। এসব পণ্য রফতানিতে নগদ সহায়তা পাওয়া গেলে রফতানি বাণিজ্য আরও সমৃদ্ধ হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা।

Please follow and like us:
2