রবি. এপ্রি ২১, ২০১৯

সবকিছু প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে, তিনি চাইলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: রিজভী

সবকিছু প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে, তিনি চাইলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: রিজভী

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে, এতে প্রধানমন্ত্রীর কোনো হাত নেই, তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যর জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এটা সবাই জানে যে প্রধানমন্ত্রীই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি চাইলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, বিএনপির নালিশ শুধু ন্যায়সঙ্গতই নয়, এটি হচ্ছে সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি’র নালিশ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের পক্ষে ও অনাচারের বিরুদ্ধে নালিশ, বাক-স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নালিশ। এই নালিশ শুধু ন্যায়সঙ্গতই নয়, এটি হচ্ছে সময়ের দাবি। উল্লেখ্য, গত সোমবার ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি কিয়ামত পর্যন্ত অভিযোগ বা নালিশ করতেই থাকবে।’ ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিএনপির নালিশ দেশের মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, লুট হওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের কবল থেকে উদ্ধারের জন্য, নজীরবিহীন মিড-নাইট ভোটের বিরুদ্ধে নালিশ। এই নালিশ মিড-নাইট সরকারের অবৈধ সব কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সতর্ক সাইরেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই নালিশগুলোই প্রতিবাদের আকারে রাজপথে ঢেউ তুলবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে অন্যান্যের পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থেকে সড়ক ও গণপরিবহনের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রিজভী। তিনি বলেন, গণপরিবহনের নৈরাজ্যের দায়, সড়কে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর দায় আপনি এড়াতে পারবেন না। গতকালও (গত সোমবার) সড়কে ২০ জন মারা গেছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আরও বেড়েছে বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, তার সুচিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়ারও কোনও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। না দেওয়া হচ্ছে মুক্তি, না সুচিকিৎসা। ‘ভুয়া’ ভোটের সরকারের অবৈধ শাসনের শুরুতেই দেশব্যাপী চরম অরাজকতা বিরাজ করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, কোথাও যেন কোনও কিছুই নিয়ন্ত্রণে নেই। আইন -শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যার সঙ্গে সামাজিক অনাচার মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলে আওয়ামী সরকারের নৈরাজ্যে সারা দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে আইনের শাসন থাকলে বিচার ব্যবস্থায় আতঙ্কের কোনও জায়গা থাকতো না বলেও দাবি করেন রিজভী। তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ভোট ডাকাতির অপকর্মে ব্যবহার করায়, তারা এখন আইন-কানুনকে তাচ্ছিল্য করছে এবং নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের চাহিদা পূরণ না করলে নারী-পুরুষ সবাই আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তাদের হাতেই মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীন। রিজভীর অভিযোগ, ‘মিড-নাইট ভোটের’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকদিন আগে পুলিশদের বলেছেন, দ্রুত মামলার কাজ নিষ্পত্তি করতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে আইন-শঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে থানায়-থানায় তাদের নিপীড়ন আরও বেড়েছে। বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে যেসব গায়েবি মামলা দায়ের করেছিল, সেসব মামলায় চার্জশিট দেওয়ার নাম করে ব্যাপক বাণিজ্য চলছে। তিনি কারাবন্দি খালেদা জিয়া, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন নবী সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আসলাম চৌধুরী, ফজলুল হক মিলনসহ হাজারো নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা সাহিদা রফিক, শওকত মাহমুদ, আবদুস সালাম আজাদ, মুনীর হোসেন, রফিক হাওলাদার, আবদুল খালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:
0