শুক্র. সেপ্টে ২০, ২০১৯

শুল্ককর ফাঁকি পলি কেবলস

শুল্ককর ফাঁকি পলি কেবলস

Last Updated on

বিশেষ সংবাদদাতা : কেব¬ তৈরিতে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার আমদানি করে পলি কেব¬ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার পণ্যকে কাঁচামাল দেখিয়ে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র আট মাসে সাতটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে পণ্য আমদানিতে প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি খুঁজে পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি এ ফাঁকি উদ্ঘাটন করে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর একইভাবে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে পলি কেব¬ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যবসার ক্ষেত্রে কম মূল্যে শুল্কায়ন এ রকম চলবে; এ রকমই তো চলে।’ শুল্ককর ফাঁকি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফাঁকি ১০ কোটি টাকা নয়, আরও ১০০ কোটি টাকা হবে। শুল্ক মূল্যায়ন মামলা করেছে, আমাদের উকিল জবাব দিচ্ছে। এটা শুধু আমাদের কোম্পানি নয়, পুরো কেবলস সেক্টরের ব্যাপার।’ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ দিয়ে কিছুসংখ্যক আমদানিকারক আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কিছু পণ্য খালাস নিচ্ছে বলে অভিযোগ পায় এনবিআর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের নির্দেশে তা খতিয়ে দেখতে নিরীক্ষা দল গঠন করে শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট (সিভিএ)। নিরীক্ষা দল চট্টগ্রামের আমদানি পণ্যের ডেটাবেজ মূল্য পর্যালোচনা করে। এতে দেখা যায়, পলি কেব¬ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার রডস আমদানির আড়ালে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের আশ্রয় নিয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়ে ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়ে ৩১ আগস্ট একটি প্রতিবেদন দেয় সিভিএ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অবস্থিত পলি কেব¬লস ১৯৯৬ সালে যাত্রা করে। প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত সাতটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার ইসি গ্রেড ৯ দশমিক ৫০ মিমি নামে পণ্য আমদানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং করেছে। চীন থেকে আমদানি করা এসব পণ্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ দিয়ে আমদানি করা হয়। এসব পণ্য দুই দশমিক ৩০ ডলার থেকে দুই দশমিক ৪৬ ডলার মূল্য দেখিয়ে শুল্কায়ন করে খালাস নিয়েছে। এনবিআরের ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বরের এক এসআরও অনুযায়ী, অ্যালুমিনিয়াম বারস, রড ও প্রোফাইল কাঁচামালের কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন তিন দশমিক পাঁচ ডলারে শুল্কায়ন করার বিধান রয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম বারস, রডস-এর সর্বনি¤œ মূল্য তিন দশমিক ৫০ ডলার হওয়ায় একই কাঁচামাল দ্বারা তৈরি অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার ইসি গ্রেড ৯ দশমিক ৫০ মিমি নামে সমজাতীয় পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি কেজি তিন দশমিক ৫০ ডলারের কম হওয়ার সুযোগ নেই। অ্যালুমিনিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের মতে, অ্যালুমিনিয়াম রডস, বারস ও ওয়্যার মূলত অ্যালুমিনিয়াম হতে তৈরি সমজাতীয় পণ্য; যার মূল পার্থক্য কাঁচামাল নয় বরং ব্যাসার্ধ। এতে স্পষ্ট অ্যালুমিনিয়াম রডস ও ওয়্যার অ্যালুমিনিয়াম দ্বারা তৈরি পণ্য। চলতি বছরের ২৮ মে এনবিআর এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। কাঁচামাল বলে খালাস নিলেও মূলত এটি কাঁচামাল নয়, এটি এক ধরনের পণ্য; যা কেব¬লস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। রাজস্ব ফাঁকি দিতে মিথ্যা ঘোষণায় কাঁচামালের এইচএস কোড দেখিয়ে কম মূল্যে শুল্কায়ন করে পলি কেব¬ খালাস নিয়েছে। ডেটাবেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার ঢাকা কাস্টম হাউজ দিয়ে প্রতি কেজি তিন দশমিক ৩০ থেকে ৪০ ডলার, বেনাপোল কাস্টম হাউজ দিয়ে চার দশমিক ৫১ হতে পাঁচ দশমিক ৩৩ ডলার ও বন্ডের মাধ্যমে আমদানি করা তিন দশমিক ৫২ হতে ২৭ দশমিক শূন্য চার ডলার মূল্যে শুল্কায়ন করে খালাস নেওয়া হয়।

Please follow and like us:
2