মঙ্গল. মার্চ ৩১, ২০২০

শীত কমতেই বেড়েছে মশার উৎপাত

শীত কমতেই বেড়েছে মশার উৎপাত

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিন দিন দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। কোনো মৌসুমেই নগরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারছে না। বর্ষাকালে ভুগতে হয় জলাবদ্ধতায় আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার দুর্ভোগ। আর এখন পোহাতে হচ্ছে মশার উৎপাত। ঘরে-বাইরে, বাসা কিংবা অফিস সব জায়গায় মশা। শীত কমতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে বেড়েছে মশার উৎপাত। মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গতবারের মত এবারও ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীবাসীর অভিযোগ, মশক নিধন কর্মীদের মাঠে তেমন দেখা যায় না। ডেঙ্গু যখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল সেসময় মশক নিধন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে তা ঝিমিয়ে পড়েছে। অথচ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘোষণা দিয়েছিল ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বছরজুড়ে কাজ করবে তারা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিশেষ মৌসুম বা নির্দিষ্ট সময়ে ডেঙ্গুবিরোধী তৎপরতা চালালে হবে না। বরং বছরব্যাপী এ কার্যক্রম জোরদার রাখতে হবে।

রাজধানী মিরপুরের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা হলেই বাড়ছে মশার উপদ্রব। গত কিয়েক দিন ধরে হঠাৎ করেই মশার উপদ্রব বেড়েছে। ঘরে-বাইরে কোথাও শান্তি নেই। ডেঙ্গুর সময় সিটি করপোরেশন যেভাবে মাঠে নেমিছিল পরবর্তী সময়ে মশক নিধন কর্মীদের আর সেভাবে ওষুধ ছেটাতে দেখা যায়নি। তদের গতি কমেছে। এই সুযোগে বেড়েছে মশা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে কোথাও দাঁড়ালেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ঘিরে ধরছে। বাসায় তো মশারি ছাড়া টেকাই যায় না।

মালিবাগের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, বাসায় কয়েল জ্বালিয়েও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ করেই বেড়েছে মশার উপদ্রব। বর্ষায় জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে ধুলা আর এখন মশার অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিশেষ মৌসুম বা নির্দিষ্ট সময়ে মশকবিরোধী তৎপরতা দেখালে হবে না। বরং বছরব্যাপী এ কার্যক্রম জোরদার রাখতে হবে। অনেক দিন ধরে কোনো বৃষ্টিপাত না থাকায় ড্রেন ও ডোবায় মশা জন্মানোর স্থানগুলোতে পানির অর্গানিক ম্যাটারিয়াল বেড়েছে। মশা জন্মানোর সময় জরুরি ভিত্তিতে লার্ভিসাইড ছিটানো না হলে মশার উপদ্রব আরও বাড়বে।

এদিকে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কিউলেক্স-এডিস মশার প্রকোপ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচি শুরু করেছে ডিএনসিসি। প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

জামাল মোস্তফা বলেন, এ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ১৪ দিন চলবে। ক্র্যাশ প্রোগ্রামে নিয়মিত ফগার মেশিনের পাশাপাশি ডিএনসিসির আনা নতুন তিন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ২০টি করে হুইল ব্যারো, মিষ্ট ব্লোয়ার পাওয়ার স্প্রে এবং দুইটি ভেহিকেল মাউন্টেইন্ড ফগার মেশিন। এ কর্মসূচি চলাকালীন প্রত্যেক কাউন্সিলর ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থায়ী মশককর্মী ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত দশজন করে মশক কর্মীর নিয়মিত হাজিরা ওয়ার্ড সচিব ও মশক সুপারভাইজারদের মাধ্যমে নিশ্চিত করে সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে ঊধ্র্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

তিনি আরও বলেন, আউটসোর্সিংয়ের দশজন কর্মীর মধ্যে পাঁচজন নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও ফগিং কার্যক্রমে সহায়তা করবে এবং বাকি পাঁচজন নিয়মিত মশক কর্মীদের সঙ্গে এডিস-কিউলেক্স মশার প্রজননস্থল (হট স্পট) চিহ্নিত ও ধ্বংস করবে। মশার প্রকোপ কমার আগে কোনো মশককর্মী ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ছুটি দিচ্ছি না।

সম্প্রতি ডিএনসিসির উদ্যোগে এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে অ্যাভোকেসি সভায় ডিএনসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করে ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. গোলাম মোস্তফা সারওয়ার বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম আরও বেগবান করতে এরই মধ্যে ২০০টি ফগার মেশিন, ২৩৮টি পালস ফগমেশিন, ১৫০টি হার্টসন হস্তচালিত মেশিন, ৩৪০টি প্লাস্টিক হস্তচালিত মেশিন, দুটি ভেহিকল মাউন্টিং ফগার মেশিন, ১০টি মটরসাইকেল ফগার ও হস্তচালিত মেশিন, ২০টি মিস্ট ব্লোয়ার-পাওয়ার স্প্রে মেশিন ক্রয়পূর্বক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি ভেহিকল মাউন্টিং ফগার মেশিন ক্রয়ের পরিকল্পনা আছে। আমরা বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় জলাশয়-ডোবা-পুকুরের জলজ আগাছা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করেছি, যা এখনও চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে এডিস মশার ঊৎস নির্মূলে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে সপ্তাহব্যাপী স্পেশাল ক্র্যাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন মেয়র সাঈদ খোকন।

এ সময় তিনি বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সচেতন হওয়া এবং নিজ নিজ বসত বাড়ি, আঙিনা ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর নাগরিকদের এডিস মশার প্রকোপ থেকে রক্ষাকল্পে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

 

Please follow and like us:
3