Published On: মঙ্গলবার ১৫ মে, ২০১৮

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে খুলনার নগরপিতা আবদুল খালেক

খুলনা প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুর চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের প্রাপ্ত ফলাফল ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। খুলনায় খালেক নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। অন্যদিকে মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। এই সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্র থেকে ২০০ কেন্দ্রের ফলাফল জানা যায়। এসব কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক নিয়ে খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯ ভোট। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৬০ ভোট। এই সময়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৮৮টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ৪৭ হাজার ৯০৯ ভোট। আর ধানের শীষ ৩০ হাজার ৬৩০ ভোট। খুলনা সিটি নির্বাচনে মোট পাঁচজন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। এর মধ্যে অনিয়মের কারণে তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
মঞ্জুকে ‘পাশে নিয়েই এগোতে চান’ তালুকদার খালেক : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে এগিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, এই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সঙ্গে নিয়েই খুলনার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। ভোট দেওয়ায় জনগণের কাছে ঋণী উল্লেখ করে কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আগে এক দফায় খুলনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকার ফল পাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্রে আসেন তালুকদার খালেক। তিনি বলেন, “খুলনার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমি তাদের কাছে ঋণী। আমি এই ঋণ শোধ করব কাজের মাধ্যমে।”
‘অক্লান্ত পরিশ্রম’ করায় নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
পরাজিত প্রার্থীকে নিয়েই একসঙ্গে কাজ করবেন কি-না এমন প্রশ্নে সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মেয়র প্রার্থী হওয়া তালুকদার খালেক বলেন, “অবশ্যই। আমি যখন খুলনার মেয়র ছিলাম, তখন তিনি (নজরুল ইসলাম মঞ্জু) এমপি ছিলেন। সে আমার আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমরা যখন খুলনা শহরে বিভিন্ন আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, সেও সেই আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। মাঠ পর্যায়ের একজন নেতা। “এটা আমি অস্বীকার করি না। কাজেই নির্বাচনে একজন হারবে একজন জিতবে। অতএব এই সমস্ত কিছু মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে।”
খুলনা শহরের উন্নয়নে মঞ্জুর যে কোনো ধরনের সহযোগিতা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “খুলনা শহর আমাদের। আমরা সবাই বসবাস করি। এই শহরটা যদি ভালো থাকে আমরা ভালো থাকব। আমি চেষ্টা করব, যে সমস্ত অঙ্গীকার করেছি সেগুলো বাস্তবায়ন করার।” মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খুলনা নগরীর ৩১ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হয়। ২৮৯ কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন।
রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত পাওয়া ফলে অনেক এগিয়ে ছিলেন ২০০৮ সাল থেকে পাঁচ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন করা তালুকদার খালেক। এরপর ২০১৩ সালে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে হেরে যান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তালুকদার খালেক বলেন, “আমি পাঁচ বছর যে কাজগুলো রেখে গিয়েছিলাম, সেই অর্থ এবং কাজ কীভাবে কার্যক্রম হইছে- সেটা আমি যাচাই-বাছাই করব। এটা আমি তদন্ত করে দেখব, এর সঙ্গে যদি কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে সেটাও তদন্তে বের হয়ে যাবে। পাশাপাশি এই কাজগুলো দিয়েই আবার শুরু করব।”

এবার খুলনায় ‘ভোট ডাকাতির’ নির্বাচন হয়েছে অভিযোগ করে যেসব কেন্দ্রে ‘কারচুপি হয়েছে’ সেগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার খালেক বলেন, “সকাল থেকে চারটা পর্যন্ত আমি বিভিন্ন কেন্দ্রে গেছি। উনি কোন কেন্দ্রে গেছে, আমি জানি না। আমার সঙ্গে অনেক সাংবাদিক ছিল। কোনো কেন্দ্রে আমার চোখের সামনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা একটা সাজানো নাটক।” নির্বাচনের শুরু থেকেই তারা এসব অভিযোগ করে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই কথার কোনো গুরুত্ব আমার কাছে নেই। “আমি সারা দিন ভইরা যদি আপত্তি দিতে থাকি, তাহলে এসব কি কেউ শুনবে? আমি শুনেছি তিনটি কেন্দ্র নাকি ভোট স্থগিত। সেটা ইসি দেখবে।”

Videos