Published On: বুধবার ১৩ জুন, ২০১৮

যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিকর বলে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, সারা দেশের রাস্তার অবস্থা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক ভালো। আমি কথা দিয়েছি, কথা রেখেছি। শবে কদরের ছুটির দিন গতকাল বুধবার ঢাকার বাস টার্মিনাল ও ট্রেন স্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। বৃহস্পতিবার দিন বাদ দিলেই শুরু হবে তিন দিনের ঈদুল ফিতরের ছুটি। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এবার ঈদযাত্রায় সড়কে ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন সড়কমন্ত্রী। বিভিন্ন স্থানে সড়কে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার পাশাপাশি মেরামতকাজ দ্রুত শেষ করা হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রেক্ষিতে আমি স্পেশাল কেয়ার নিয়েছি এবারের ঈদে। এবার আমি প্রস্তুতি গত কয়েকবারের চাইতে জোরদার করেছি। গাবতলী পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রত্যেক কাউন্টারে জিজ্ঞাসা করেছি, তাদের অবস্থা। অন্য সময় প্রত্যেক কাউন্টারেই বলে না- ‘ভালো না’। আর এবার একটা কাউন্টারেও বলেনি যে রাস্তা খারাপ বা তাদের ব্যবসা খারাপ। বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো অভিযোগ যাত্রীদের কাছে পাননি বলে জানান মন্ত্রী। এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী আমার কাছে কমপ্লেইন করেনি যে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলে আমাকে জানাবেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নেই দাবি করে কাদের বলেন, কিছুটা সমস্যা হচ্ছে উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতে, তা পাটুরিয়ায় ফেরিতে ধীর গতির কারণে। নৌ ও রেল পথেও কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। আগের যে কোনো সময়ের চাইতে জনগণের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক এখন পর্যন্ত, উপসংহার টানেন তিনি।
বিদেশে নালিশ দায়িত্বশীল আচরণ নয়: বিএনপি নেতাদের ভারত সফরের দিকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিদেশে ‘নালিশ’ জানানো কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের আচরণ নয়। গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিএনপি নেতাদের সফর নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। সম্প্রতি ভারত সফর করে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তারা বাংলাদেশের আগামি নির্বাচন নিয়ে দেশটির ‘দৃষ্টিভঙ্গীর’ পরিবর্তন দেখেছেন। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিএনপিকে নিয়ে ‘অপপ্রচারের’ কথা ভারতের নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা তো ক্ষমতার জন্য ভারতে যাইনি। আমরা ভারতে গিয়ে তিস্তার কথা বলেছি, রোহিঙ্গা সমস্যা, আমাদের জাতীয় স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি। বিএনপি জাতীয় স্বার্থ নিয়ে কি কোনো কথা বলেছে? তারা গেছে ইলেকশনে তাদের সাহায্য করতে এবং নালিশ করতে। দেশে বসেও নালিশ, বিদেশে গেলেও নালিশ। কথায় কথায় অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ করা দেশের জন্য শুভ নয়। এটা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের পরিচয় হতে পারে না। আমীর খসরু বলেছিলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা যদি ‘দৃশ্যমান হয়’, সেটা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দেশের জনগণ যে রায় দেবে, সেই ক্ষমতায় আসবে। এখানে ভারত কি আমাদের দেশের জনগণকে প্রভাবিত করবে? আমার তো মনে হয় না। এখানে কোনো বিদেশি শক্তির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। আর ভারত এযাবৎ আমার জানা মতে কখনও হস্তক্ষেপ করেনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে মন্ত্রী কাদের বলেন, সিএমএইচ এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা বাংলাদেশের কোথায় আছে? বঙ্গবন্ধুতেও ভালো চিকিৎসক আছে, তারপরও যেহেতু তারা চান না, তাহলে সবচেয়ে ভালো যে হাসপাতাল আছে, বাংলাদেশে সেটা হচ্ছে সিএমএইচ। বিএনপি তাদের নেত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি তুলেছে। খালেদা জিয়াও অন্য কোনো হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহী। সিএমএইচে নেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করতে বিএনপিকে আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, তাদের প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়, যদি তারা চিকিৎসা চান। আর যদি রাজনীতি করতে চান সেটা ভিন্ন কথা। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোট শরিকদের আসন বেশি চাওয়ার খবর প্রকাশের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে এখনও দলীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু করিনি। নেত্রী বিদেশ থেকে ফিরেছেন, আমরা ঈদের পরে এসব নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করব। কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, অবশ্যই উইনেবল প্রার্থী হতে হবে, সে যে দলেই হোক। আমরা হারার জন্য মনোনয়ন দেব না। সে আওয়ামী লীগের হোক বা শরিক কেউ হোক।

Videos