শনি. এপ্রি ২০, ২০১৯

মোদি-মমতার বাগযুদ্ধ

মোদি-মমতার বাগযুদ্ধ

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মধ্যে বাগযুদ্ধ বেশ জমে ওঠেছে। গতকাল বুধবার উভয় নেতা পশ্চিমবঙ্গে পৃথক জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তারা পরস্পরকে ঘায়েল করতে ছুড়েছেন কথার বান।
গতকাল বুধবার প্রথমে শিলিগুঁড়ি, তারপর কলকাতার ব্রিগেডে পরপর দুটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর দিনহাটার জনসভায় পাল্টা বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের বিকাশে স্পিড ব্রেকার হয়ে বাধার সৃষ্টি করছেন— শিলিগুঁড়ির কাওয়াখালিতে মমতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন মোদি। পাশাপাশি বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান অভিযান নিয়েও তৃণমূলনেত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এরপর ব্রিগেডের সভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে একের পর তোপ দাগেন নরেন্দ্র মোদি। তার এই অভিযোগের জবাব দিতে মমতা বেছে নেন কোচবিহারের দিনহাটার জনসভাকে। দুপুরেই উত্তরবঙ্গের পথে রওনা হওয়ার সময় তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, সমস্ত অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তিনি বেছে নেবেন দিনহাটাকেই। সেইমতো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোদিই ছিলেন তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। নরেন্দ্র মোদিকে এক্সপায়ার্ড প্রাইম মিনিস্টার বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
যা বললেন মমতা : বিজেপিকে বদলান। ভারতবর্ষকে রক্ষা করুন। দিলি¬তে চাই জনগণের সরকার। রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ৪২টিতেই জিতবে তৃণমূল। টাকা দিয়ে ভোট কেনা যাবে না। আপনারা কেউ টাকা নিয়ে বিজেপিকে ভোট দেবেন না। নোটবন্দির নামে জনগণের টাকা লুট করা হয়েছে। প্রচারে ভারতীয় সেনা নিয়ে কোনও কথা বলা যাবে না, জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কী করছেন উনি? দেশটাকে জবরদস্তি করে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমি বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত আছি। বাংলার সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে কোনও লাভ নেই। আগে দিলি¬ সামলা। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলা। ক্ষমতা থাকলে টিভি বিতর্কে আসুন। অথবা প্রকাশ্যে আসুন। আমি আপনার সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কে নামবো। আমি এখন মোদীবাবুকে এক্সপায়ারি বাবু বলে ডাকবো। উনি আর প্রধানমন্ত্রী নন। উনি বলেছেন আমরা উন্নয়ন করিনি। গরিবদের জন্য কাজ করিনি। কৈফিয়ত দিন। আমি তর্কের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। উনি গায়ের জোরে মিথ্যা বলছেন। উনি এক্সপায়ারি প্রাইম মিনিস্টার।
মোদি যা বললেন : বামেদের বন্দুকের রাজনীতির সংস্কৃতি ধার নিয়েছে তৃণমূল। সেটা করলেই গত ৭২ বছরের ক্ষতি পূরণ হবে। পিসি-ভাইপো মিলে বাংলাকে লুট করছে, বাংলার মানুষের সঙ্গে অবিচার করছে। ৫৫ বছরের পরিবারতন্ত্রে গরিব, সাধারণ মানুষের গলা টিপে হত্যা করেছে দুর্নীতি। ২০১৪ সালে আপনারা ভোট দিয়েছিলেন, তার জন্য জঙ্গিদের উপযুক্ত জবাব মিলেছে। এ বার আমরা আপনারা মিলে এমন সরকার বানাব, যাতে তৃণমূল সিপিএমের গুন্ডারাজ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। নিজেদের ভোট ব্যাংকের জন্য কংগ্রেস সব সময় জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাব দেখিয়েছে। যখনই আমি চৌকিদার বলেছি, তখনই চৌকিদারের প্রতি হিংসা তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের। বাংলার কোণে কোণে এই চৌকিদারের যে সমর্থন ও শক্তি মিলেছে, তারই পরিণতিতে আমি আপনাদের সামনে রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আপনাদের সামনে এসেছি। আপনারা যে ভালোবাসা দিচ্ছেন, আমি প্রতিজ্ঞা করছি, প্রতিদান দেবই

Please follow and like us:
0