রবি. এপ্রি ২১, ২০১৯

মেরিকোর শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম

মেরিকোর শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম

Last Updated on

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্প মূলধনের বহুজাতিক কোম্পানি মেরিকো বাংলাদেশের শেয়ারের দাম ১ মাসের মধ্যে বেড়েছে প্রায় ৪০০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এই দাম বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।
শেয়ারের দামের বিষয়ে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএসই এমন অভিমত দিয়েছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে মঙ্গলবার তথ্যও প্রকাশ করেছে তারা। ডিএসই জানিয়েছে, শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনের কারণ জানতে চেয়ে ১৮ মার্চ মেরিকো কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠানো হয়। এর জবাবে তারা (মেরিকো) জানিয়েছে এ বিষয়ে তাদের কাছে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অনেকটা টানা বেড়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১ হাজার ২৬৫ টাকা। যা অনেকটা টানা বেড়ে ১৮ মার্চ ১ হাজার ৬২১ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এক মাসের কম সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৬৪ টাকা। এই দাম বাড়ার প্রেক্ষিতেই ডিএসই থেকে কোম্পানিটিকে নোটিশ পাঠানো হয় এবং কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প মূলধনের ও ভালো গ্রোথের কোম্পানি হওয়ায় এবং নিয়মিত শেয়ারহোল্ডারদের মোটা অংকের লভ্যাংশ দেয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেশি। আর শিগগিরই কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে এ কারণে শেয়ারের দাম বাড়ছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী মাত্র ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১৫ লাখ। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে মাত্র দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ইচ্ছা করলেই বহুজাতিক এই কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেন না। কোম্পানিটির লভ্যাংশের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, শেয়ারহোল্ডাররা ২০১৮ সালে ৬০০ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৫০০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৪৫০ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৪২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি বছর কোম্পানির লভ্যাংশের পরিমাণ বেড়েছে। আর মাত্র ১২ দিন পর আগামী ৩১ মার্চ কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছর শেষ হবে। ডিএসই কোম্পানিটির ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ৪৯ টাকা ৩৯ পয়সা।

Please follow and like us:
0