শনি. মার্চ ২৩, ২০১৯

মুদ্রাবাজারে ডলারের দামে অস্থিরতা

মুদ্রাবাজারে ডলারের দামে অস্থিরতা

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় দেশের বাজারে মার্কিন ডলারের সঙ্কট তীব্র হয়েছে। ফলে টাকার বিপরীতে বেড়েই চলেছে ডলারের দাম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ৮৪ টাকা ১২ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ টাকা ২২ পয়সা বেশি। তবে সাধারণ মানুষ বা যারা ভ্রমণ করতে বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের ডলার কিনতে হচ্ছে ৮৬ টাকার দরে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, আমদানি-রফতানির ভারসাম্য না থাকা, অর্থ পাচারসহ নানা কারণে ডলারের বাজারে এ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে রফতানি বাণিজ্য ও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে কিছুটা উৎসাহিত হলেও বেড়ে যাচ্ছে পণ্য আমদানির ব্যয়। কারণ, আমদানির জন্য বেশি মূল্যে ডলার কিনতে হচ্ছে। ফলে খাদ্যশস্য, ভোগ্যপণ্য, জ্বালানি তেল, শিল্পের কাঁচামালসহ সব আমদানি পণ্যের ব্যয় বাড়ছে। সর্বোপরি মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে দেশের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার এ সঙ্কট মেটাতে প্রচুর ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৫৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বিক্রি করেছিল ২৩১ কোটি ১০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরে তিন দফা ডলারের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বছরের প্রথম দিন আন্তঃব্যাংক রেটে ডলারের দাম ছিল ৮৩ টাকা ৯০ পয়সা। দুদিন পর ৩ জানুয়ারি ডলারের দাম ৫ পয়সা এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ১০ পয়সা দাম বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি ৭ পয়সা বেড়ে ডলারের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ১২ পয়সায়। বাজারের বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন। বেশকিছু ব্যাংক ডলার সঙ্কটের কারণে পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কিছু ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের হারের চেয়ে বাড়তি মূল্য আদায় করছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। আর সাধারণ মানুষ, যারা ভ্রমণ করতে বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের ডলার কিনতে হচ্ছে ৮৬ টাকার ওপরে। মানি এক্সচেঞ্জের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর থেকেই ডলারের সঙ্কট রয়েছে। এর প্রধান কারণ, যে পরিমাণ আমদানি এলসি খোলা হয়েছে সে পরিমাণ ডলার ব্যাংকগুলোর কাছে নেই। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে, সেটি চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। আবার এখন হজের নিবন্ধনের জন্য বাড়তি ডলার লাগছে। সব মিলিয়ে চাহিদা বেশি থাকায় ডলারের দাম বেড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি চাহিদা অনুযায়ী বাজারে ডলার সবরাহ করে, আর সম্প্রতি রফতানি রেড়েছে- এ অর্থ হতে আসলে ডলারের দর স্বাভাবিক হবে বলে জানান তারা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ আমদানি ব্যয় বেশি হয়েছে। প্রথম ছয় মাসে আমদানি ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৭০৮ কোটি ডলার। এসময় রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ১৬ কোটি ডলার। এ হিসাবে আলোচিত সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৬৬ কোটি ডলার। এ সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ।বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৭ সালের জুনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার রিজার্ভ অতিক্রম করেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাব ঋণাত্মক রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় তা কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩০৮ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

Please follow and like us:
0