সোম. ডিসে ৯, ২০১৯

মিডিয়া ছিল বলেই ডেঙ্গু সামনে এসেছে: ফখরুল

মিডিয়া ছিল বলেই ডেঙ্গু সামনে এসেছে: ফখরুল

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার জন্য ‘বেশি সংবাদ’ হওয়ার কথা বললেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিডিয়ার কারণেই মানুষ এই প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার সম্পর্কে জানতে পেরেছে, না হলে তারা বুঝতেই পারত না কেমন ভয়াবহ আকার নিয়েছে ডেঙ্গু।
ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নেওয়ার জন্য মন্ত্রী ও মেয়রদের দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলছেন, তারা প্রথমে গুরুত্ব না দিয়ে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সে সময় কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এই অবস্থা তৈরি হত না।
গতকাল বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ডেঙ্গুসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার মঙ্গলবার প্রচার করেছে বিবিসি বাংলা। সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে মশা নিধনে গাফিলতির যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। জবাবে তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশন একেবারেই ব্যবস্থা নেয়নি, কথাটা কিন্তু ঠিক নয়। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় সময় যেটা হয়ে যায় যে, ঘটনাগুলো এমনভাবে ছড়ায় যে, আর সংবাদগুলো যখন বেশি আসে, মানুষ এত বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে যে, সেটাই সমস্যাটা সৃষ্টি করে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “উনারা সব সময়ই জিনিসগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাস্তব সত্য যেটা সেটাকে স্বীকার করতে ওরা সাহস পান না। এখানে মিডিয়া ছিল বলে তো ডেঙ্গুটা সামনে এসেছে। না হলে ডেঙ্গুটা চেপে যেত সবাই, বুঝতে পারত না কীভাবে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু।”

ডেঙ্গুর কারণে এখন প্রতিটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দাবি করে তিনি বলেন, “যার ডেঙ্গু হয়েছে সে ভয়ে আছে দৌড়াচ্ছে, আর যার হয়নি সেও দৌড়াচ্ছেন।”
এরমধ্যে নিজেও ডেঙ্গুর পরীক্ষা করিয়েছেন জানিয়ে ফখরুল বলেন, “দুই দিন ধরে আমার শরীরে ব্যাথা ছিল, আমি দুই বার টেস্ট করিয়েছি। এই বয়সে যদি ডেঙ্গু হয় তাহলে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে!”
প্রথম দিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় ডেঙ্গুতে এখন মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকে নতুন নয়। অবলীলায় ইতোপূর্বেও প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যে সত্য তা অস্বীকার করেছেন। যার ফলে কী হয়েছে? দেশের মানুষ সাফার করেছে।
“আজকে ডেঙ্গুকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা, তাদের মেয়ররা প্রথম দিকে তো কোনো গুরুত্বই দেয়নি এবং আপনার নাকচ করে দিয়েছে গুজব বলে। এখন দেখা যাচ্ছে যে, এটা এত বেশি সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে-এটা শুধু ঢাকাতে নয়, ঢাকা থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো জেলা বাদ নেই। এটা (ডেঙ্গু) মহামারি আকারেই ছড়িয়ে পড়েছে।”
ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাই মিলে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার মন্তব্য করে তা না হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করেন মির্জা ফখরুল।
“আমি তো প্রথমেই বলেছিলাম, আসলে অবিলম্বে এটাকে আপৎকালীন সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আমরা বলেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজনীতিকে বাদ দিয়ে, দলীয় রাজনীতিকে বাদ দিয়ে, জনগণের কল্যাণের জন্য সকলের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। সেটা তো কখনো হয়নি এখানে।
“যতগুলো জাতীয় সমস্যা এসেছে, কোনো সমস্যাতে আওয়ামী লীগ অন্যান্য দলকে সম্পৃক্ত করেনি এবং তারা বিশ্বাসই করে না। তারা একলা চলানীতিতে বিশ্বাস করে। সে কারণে তাদের বড় ধরনের ভুল হতে থাকে, ত্রটি হতে থাকে।”
ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এইডিস মশা নিধনে সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্ত্রীদের ঝাড়ু হাতে রাস্তার নামারও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ে আর যে সমস্ত নাটক চলছে এখন, ফটোসেশন। আমাদের ওবায়দুল কাদের সাহেব নিজেই ঝাড়ু-টাড়ু নিয়ে ঝাড়ু দিলেন। “আবার উনি বলছেন যে, ফটোসেশন করা চলবে না। ইট ইজ ভেরি ইন্টারেস্টিং! আমরা সাধারণ মানুষ এগুলো দেখছি আরকি।”

Please follow and like us:
3