বুধ. ফেব্রু ২০, ২০১৯

মানবসেবায় পুরষ্কৃত এসআই শবনম

মানবসেবায় পুরষ্কৃত এসআই শবনম

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত একজনের পায়ে বরফ চেপে ধরে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত পুলিশ কর্মকর্তা শবনম সুলতানা পপিকে পুলিশ পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম সেবা।
গতকাল সোমবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পুলিশ কর্মকর্তাকে পদক পরিয়ে দেন। সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য পুলিশ সপ্তাহে পদক দেওয়া হয় যা বিপিএম এবং পিপিএম নামে পরিচিত। প্রথমটি বাংলাদেশ পুলিশ পদক এবং পরেরটি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক।

এবার এই দুই পদক পেয়েছেন রেকর্ডসংখ্যক, ৩৪৯ জন। গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণ ছাড়াও ‘সুষ্ঠুভাবে’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করায় বেড়েছে পদকের সংখ্যা।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত শবনম সুলতানা। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘এই পুরষ্কার পাওয়ার আনন্দই অন্য রকম। আমি উৎসাহিত হলাম। ভবিষ্যতে আরো এ রকম কাজ চালিয়ে যাব।’
শবনম ঢাকা মহানগর পুলিশে কাজ করেন উপপরিদর্শক পদে। তিনি তেজগাঁও থানায় কর্মরত। বলেন, ‘এই বাহিনীতে যোগ দিয়েছি মানুষের জন্য কাজ করব বলে। আর যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল বিপদগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে যেতে হবে। আমি আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আমার ঊর্ধ্বতন স্যাররা এর স্বীকৃতি দিয়েছেন। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
শবনম যা করেছিলেন : ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে আজিমপুর-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ভিআইপি পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা কয়েকটি গাড়িকে প্রচ- বেগে ধাক্কা দেয়। এতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসআই শবনম সুলতানা। নিজেই দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। আহতদের নিজ হাতে দেন প্রাথমিক সেবা। আহত একজনের পায়ে বরফ চেপে ধরে রাখেন। এই ঘটনা মোবাইলে ধারণ করেন সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন। ফেসবুকে ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে পড়ে। পুলিশের অনেক বড় কর্মকর্তাও তখন তার ব্যাপক প্রশংসা করেন। গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ সে সময় লিখেন, ‘এই ছবি শুধু পুলিশের সেবার কথা বলে না, পরিবর্তনের কথাও বলে। শ্রদ্ধা।’
শবনম সেদিন বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম ছেলেটি যেন স্বাভাবিক হাঁটা চলা ফেরা করে স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে। আর তখন তাকে উদ্ধার না করা হলে হয়ত ওর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত। এছাড়া সবারই তো পরিবার আছে। পুলিশের চাকরিতে যোগদানের সময়ই আমাদের শেখানো হয়েছে মানবতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। তাই আমি প্রতিনিয়ত মানুষের সেবাই নিজেকে বিলিয়ে দেই।’
পপির জন্ম পাবনায়। পুলিশে যোগ দেন ২০০১ সালে। বলেন, ‘বাহিনীতে যোগদানের পর বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। কোনদিন মানুষের উপকার ছাড়া ক্ষতি করিনি।’

Please follow and like us:
0