মঙ্গল. মার্চ ১৯, ২০১৯

মাদক ঠেকাতে শাহ আমানত বিমানবন্দরে তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার

মাদক ঠেকাতে শাহ আমানত বিমানবন্দরে তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার

Last Updated on

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যে মাদক পাচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে আরও জোরদার করা হয়েছে তল্লাশী ব্যবস্থা। কঠোর নজরদারিতে আনা হয়েছে যাত্রীদের ব্যাগেজ। পাশাপাশি প্রবাসী যাত্রীদের সমস্যা নিরসনসহ বাড়ানো হচ্ছে সেবার পরিধি। সম্প্রতি নিজ দপ্তরের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে এ তথ্য জানান বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার এবিএম সারওয়ার-ই-জামান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইমিগ্রেশন, কাস্টম, নিরাপত্তা, বিমান সংস্থাসহ বিমানবন্দরে দায়িত্বে থাকা সব সংস্থার প্রতিনিধিরা। চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী সিআইপি’র নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওমানে মাদক পাচার, যাত্রী দুর্ভোগ, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া, লাশ পরিবহন এবং সিআইপি সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। মাদকদ্রব্যের চালান ধরা পড়ায় ওমান বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, খাবার, দাঁতের মাজন, পেস্টসহ নানা মাধ্যমে যাওয়া ইয়াবা-গাজার চালান আটকের পর বাংলাদেশী যাত্রীদের তল্লাশীতে পড়তে হচ্ছে। এতে দেশের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে, জনশক্তি বাজারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কতিপয়ের অপকর্মে দুশ্চিন্তায় আছেন প্রায় ৮ লাখ ওমানপ্রবাসী। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সারওয়ার-ই-জামান বলেন, ওমানে মাদক পাচারের তথ্য এই প্রথম জানা গেছে। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমাদের অত্যাধুনিক স্ক্যানার দিয়ে এসব পার হবার সুযোগ কম। তারপরও তল্লাশি জোরদার ছাড়াও বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এ ছাড়া দূতাবাসের মাধ্যমে আটকদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে দেশীয় হোতাদের খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে প্রবাসীদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ও সর্বোচ্চ সেবা দেয়া হয়ে থাকে। তাই খোলা হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও সার্বক্ষণিক তথ্যকেন্দ্র। টার্মিনাল ভবনজুড়ে সুপেয় পানির কল ও টেলিভিশন বসানো হয়েছে। সহজ ও দ্রুত করা হয়েছে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া। অপেক্ষমাণ কক্ষটি আধুনিকায়নসহ প্রবাসী সিআইপিদের জন্য আরও কিছু বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ব্যবস্থাপক। বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক’র উপ-পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম মজুমদার বিদেশ থেকে আসা লাশ ও অসুস্থদের পরিবহন সুবিধাসহ প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার তথ্য দিয়ে বলেন, বহির্গমন কার্ড পুরণে দুজন কর্মী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ফলে লেখাপড়া না জানা প্রবাসীদের কার্ড পুরণে দুর্ভোগে পড়তে হবে না। অবৈধ গমন ঠেকানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সতর্কতা অবলম্বনের কথা উল্লেখ করে ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, এজন্য কোন কোন যাত্রীর ক্ষেত্রে কিছুটা সময় নিতে হচ্ছে। দেশের সুনামের স্বার্থে আমাদের তা করতেই হচ্ছে। তারপরও প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী নির্ধারিত সময়েই তাদের ফ্লাইট ধরছেন। ই-ভিসার পর ই-ইমিগ্রেশন চালু হলে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হবে। ওমান থেকে দেশে লাশ পরিবহনে জটিলতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন বলে জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর সহকারী স্টেশন ব্যবস্থাপক ইমরুল হাসান আনসারী। মাদক রোধে নেয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাংবাদিক এজাজ মাহমুদ বলেন, তল্লাশী জোরদারে প্রবাসীদের দুর্ভোগ যেন না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বিমানবন্দর এপিবিএন এর সহকারি পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির খান, কাস্টমস কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক, স্টেশন যোগাযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ, নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের স্টেশন ইনচার্জ মো. মাঈনুল ইসলাম, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ডেপুটি স্টেশন ইনচার্জ জেসমিন আক্তার জেসি, বিমানবন্দর আনসার ক্যাম্পের কমান্ডার মো. শফিুকল ইসলাম, নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. মেশকাত হোসেন, মো. ইউছুফ ও মো.কামরুজ্জামান এবং চট্টগ্রাম সমিতির উপদেষ্টা মো. সামসুল আজিম আনছার সিআইপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী শাবু, আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ সামশুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:
2