মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এখনো এনালগ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এখনো এনালগ

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস ইতোমধ্যে ডিজিটাল হয়েছে। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সেই এনালগ যুগেই পড়ে আছে। আসামিদের অবস্থান শনাক্তের জন্য নেই আধুনিক ডিভাইস। মাদকদ্রব্য সহজে খোঁজা বা শনাক্ত করার জন্য নেই স্ক্যানার মেশিন। এ কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তরের লোকজনদের গলদঘর্ম হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
একটি বার্তাসংস্থা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জামালউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বলেন, ‘আমরা অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এর অংশ হিসেবে পরিদর্শকদের কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। তবে তারা যেন আরো বেশি গতিতে কাজ করতে পারেন সেজন্য আধুনিক কিছু যন্ত্রপাতি দরকার, যার চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অনেক আগে থেকেই লোকবল ও গাড়ি সংকটে ঠুটো জগন্নাথ হয়ে আছে। এ সংকট এখন আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। তথ্য পাওয়ার পর আসামি কোথায় অবস্থান করছে, তা জানা সবার আগে জরুরি। কিন্তু তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আধুনিক ডিভাইস থাকলে আসামিকে অনেক আগেই আইনের আওতায় আনা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিদর্শক বলেন, ‘আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে হলে আমাদের অন্য সংস্থার সহযোগিতা নিতে হয়। তারা তথ্য দিলে তার পর আসামি ধরতে যাই। ততক্ষণে ওই আসামি স্থান ত্যাগ করে। আবার রাস্তায় চলার সময় কোনো ব্যক্তির কাছে বা যানবাহনে মাদক আছে কি না, তা শনাক্ত করার জন্য দরকার স্ক্যানার মেশিন। আমাদের তাও নেই। এ কারণে অনেক মাদক কারবারি চোখের সামনে দিয়ে চলে যায়।’
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলে প্রত্েযক পরিদর্শকের জন্য কম্পিউটারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তথ্য সংরক্ষণের জন্য নেই নিজস্ব সার্ভার। এ কারণে হাতে লিখে কিংবা প্রিন্ট করে তা কর্মকর্তাদের কাছে দিতে হয়। এ কারণে যে উদ্দেশ্েয এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা কাজে আসছে না। অতিরিক্ত ব্যয়ও হচ্ছে।’
একজন সিপাহী বলেন, ‘আমরা সেই আগের মতোই কাজ করে যাচ্ছি। অর্থাৎ সোর্স দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি, অপরাধীকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছি, সন্দেহভাজনকে হাত দিয়ে তল্লাশি করছি। এসব কারণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, এটা ঠিক। কিন্তু তারপরও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। আরো কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করছি। শিগগিরই এগুলোর সমাধান হবে।’
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীর ১৪টি সার্কেলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন করে পরিদর্শক আছেন। কিন্তু আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও গাড়ি না থাকায় তাদেরকে বেশিরভাগ সময় অফিসে থাকতে হয়। ঠিকমতো অভিযানে যেতে পারেন না তারা।

Please follow and like us:
3
20
fb-share-icon20
Live Updates COVID-19 CASES