শুক্র. জানু ১৮, ২০১৯

ভ্যাট ফাঁকিতে বহুজাতিক নিয়েলসন বাংলাদেশ

ভ্যাট ফাঁকিতে বহুজাতিক নিয়েলসন বাংলাদেশ

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক পরিমাপ ও তথ্য বিশ্লেষণ কোম্পানি নিয়েলসন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। পাঁচ বছর ধরে বিক্রয় তথ্য গোপন করে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে কোম্পানিটি। রাজস্ব ফাঁকি দিতে মূসক-১১ চালান জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে রেয়াত গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া অবৈধভাবে ভ্যাট অব্যাহতি নিয়েছে কোম্পানিটি। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৩৯ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বহুজাতিক নিয়েলসন বাংলাদেশ। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট ফাঁকি ও অনিয়ম উদ্ঘাটন করেছে। সূত্র জানায়, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান দি নিয়েলসন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাট ফাঁকি ও রাজস্ব অনিয়ম করে আসছে বলে অভিযোগ পায় এনবিআর। প্রতিষ্ঠানটি এনবিআরের আওতাধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) এর ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন ও নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। ভ্যাট কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে ক্রয় ও বিক্রয় হিসাব রেজিস্টার চাইলে প্রতিষ্ঠান তা দেখাতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার থেকে ওয়ার্ক অর্ডার, কন্ট্রাক্ট ভ্যালু বা বিক্রয়, ব্যয় ও অন্যান্য তথ্য জব্দ করে নিয়ে আসে। জব্দ করা তথ্য ও প্রতিষ্ঠানের মাসিক দাখিলপত্র (ভ্যাট রিটার্ন) পর্যালোচনা করে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি ও রাজস্ব অনিয়ম উদঘাটন করা হয়। এ নিয়ে দেওয়া হয় প্রতিবেদনে বলা হয়, কোম্পানি প্রতি মাসে রিটার্নে যে পরিমাণ সেবা ক্রয় বা ব্যয় করে তার সঙ্গে কম্পিউটার থেকে জব্দ করা বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে। রিটার্নে প্রতিষ্ঠানটি রফতানি ও ভ্যাট অব্যাহতির কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু কোন পণ্য রফতানি করা হয়েছে এবং কোন কোন খাতে কী দেখিয়ে ভ্যাট অব্যাহতি নিয়েছে, তার কোনো তথ্য কোম্পানির পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি মূসক-১১ চালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রেয়াত গ্রহণ করে আসছে। তবে রেয়াত গ্রহণে যেসব মূসক চালান রিটার্নের সঙ্গে দাখিল করেছে তা জাল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চালান জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল রাজস্ব জালিয়াতি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় তথ্য, রিটার্ন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নেলসন বাংলাদেশের কম্পিউটারে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রায় ২৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সেবা বিক্রয় করার তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু পাঁচ বছরে বিক্রি দেখিয়েছে প্রায় ১৩৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বিক্রয় তথ্য গোপন করেছে; যার ওপর প্রযোজ্য মূসক প্রায় ২৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর ওপর মাসিক দুই শতাংশ হারে সুদ প্রায় ১২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সুদসহ ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণা, পরিমাপ ও তথ্য বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসের রিটার্নে কিছু কিছু ভ্যাট আরোপযোগ্য সেবা রফতানি দেখিয়েছি। কিন্তু সেবার নাম উল্লেখ করেনি এবং রফতানির সপক্ষে কোনো দলিলাদি দেখাতে পারেনি। বৈধ কাগজপত্র না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি রফতানির অজুহাতে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানের দেখানো রফতানির মধ্যে রয়েছে, ২০১৮ সালে দুই কোটি টাকার সেবা, ২০১৭ সালে সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, ২০১৫ সালে ২১ লাখসহ মোট দুই কোটি ৫৫ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে প্রায় সাড়ে ৪৬ লাখ টাকা, ২০১৭ সালে প্রায় চার কোটি ১৪ লাখ, ২০১৬ সালে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ ও ২০১৪ সালে প্রায় ৪৬ লাখ টাকাসহ মোট পাঁচ কোটি ২৪ লাখ টাকা অব্যাহতি নিয়েছে। কিন্তু রফতানি ও অব্যাহতির সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাট আদায়ের সুপারিশ করা হয়। অব্যাহতি ও রফতানি দেখানো সেবার ওপর ভ্যাট হিসাব করলে প্রতিষ্ঠানটির ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

Please follow and like us:
2