ভূতদাদু

ভূতদাদু

রাসেল খান : সারা বাড়ি হইচই করে মাথায় তুলে রাখে রাকিব। দুষ্টামির শেষ নেই। মাঝে মাঝেই রাকিবের বিরুদ্ধে নালিশ শোনা যায়। মা শাসন করেও তাকে থামাতে পারেন না। কিছু বললেই উল্টো মাকে বকা দেয় রাকিব। খুব ডানপিটে। মা সব সহ্য করলেও পাড়া প্রতিবেশীরা সহ্য করতে নারাজ।
রাকিব দাদুকে খুব পছন্দ করে। কারণ, দাদু তাকে মজার মজার ভূতের গল্প শোনায়। ভূতের গল্প তার খুব প্রিয়। রাকিব দাদুকে ভূতদাদু বলেই ডাকে। রাকিব কখনও ভূত দেখেনি। মনে মনে ভূত দেখার ইচ্ছেও হয়। একদিন রাকিব দাদুকে বলল, আচ্ছা দাদু ভূতের ছেলেমেয়ে কি ইশকুলে যায়? মায়ের কথা কি মন দিয়ে শোনে? দাদু একটু ভেবে বললেন, ভূতের ছেলেমেয়ে পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। নিয়মিত স্কুলে যায়, খাওয়া দাওয়া করে এবং খেলার সময় খেলে। রাকিবের ইচ্ছে সে ভূতের ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করবে। নানা রকম খেলায় মেতে উঠবে।
দাদু রাকিবের এমন কথা শুনে খুব বিপাকে পড়েন। কী করা যায় এখন? ভূতের ছেলে কোথায় পাব? হঠাৎ দাদু একটি বুদ্ধি বের করলেন। তিনি রাকিবকে বললেন, শোন দাদু, আজ ভূতের ছেলে সন্ধ্যায় এ রাস্তা দিয়ে যাবে। তুই ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকিস। তোকে যা বলবে মনোযোগ দিয়ে শুনিস। কথা না রাখলে তোকে বন্ধু করবে না। রাকিব মাথা নেড়ে বলল, আচ্ছা দাদু।
দাদু ভূত সেজে চুপিচুপি বেড়িয়ে পড়েন। রাকিবের মনে অনেক আনন্দ। আজ সে ভূতের ছেলের সাথে কথা বলবে। বেশ হাসি খুশি মনের ভেতর। হঠাৎ বারান্দার বামপাশের কাঁঠাল গাছের কাছ থেকে আওয়াজ ভেসে এলো…
: রাকিব, রাকিব, তুমি কোথায়?
: আমি বারান্দায়। তুমি আমার
: নাম জানলে কীভাবে?
: তোমার কথা সব শুনেছি।
: কে বলেছে?
: কে আবার তোমার ভূতদাদু!
: তুমি ভূতদাদুকে চেনো?
: হ্যাঁ, খুব চিনি। তিনি অনেক ভালো। আমি তাকে ভালো দাদু বলে ডাকি।
: আচ্ছা, তোমার নাম তো শোনা হলাে না।
: আমার নাম ছটকু।
: বাহ্! বেশ মিষ্টি নাম তোমার। তোমার এই মিষ্টি নাম কে রেখেছে?
: আম্মু। তোমার নামও কিন্তু চমৎকার!
: তুমি কি আমার বন্ধু হবে?
: হ্যাঁ, তবে শর্ত আছে।
: কী শর্ত?
: তুমি আর দুষ্টুমি করবে না। কারও কোনো কিছু নষ্ট করবে না। মায়ের সব কথা শুনবে।
: আচ্ছা, সব করব।
: আজ থেকে আমরা বন্ধু। আচ্ছা, আমার পড়ার সময় হয়ে গেছে। এখন আসি। আবার কথা হবে।
: ভালো থেকো বন্ধু।
: তুমিও ভালো থেকো।
ভূতের ছেলে ছটকু বন্ধু হওয়ায় রাকিব খুব খুশি। খুশিতে দাদুকে জড়িয়ে বলল, ছটকু অনেক ভালো ছেলে। সুন্দর সুন্দর কথা বলে। সে আজ আমার বন্ধু হয়েছে। দাদু বললেন, তাই নাকি! এখন তাহলে রাতের খাবার খেয়ে নাও। না হলে ছটকুকে বলে দেবো। তোমার সাথে আর দেখা করবে না। না, না দাদু আমি খেয়ে নেবো। ছটকু জানলে বলবে, আমি মিথ্যাবাদী। কথা দিয়ে কথা রাখিনি। আমি আর কাউকে কষ্ট দেবো না। মায়ের কথাও মন দিয়ে শুনব। দাদু হেসে বললেন, আমার দুষ্টু দাদুভাইয়ের বুদ্ধি হয়েছে।

Please follow and like us: