শনি. মার্চ ২৩, ২০১৯

ভিনগ্রহের প্রাণী সন্ধানে নতুন ডিএনএ উদ্ভাবন

ভিনগ্রহের প্রাণী সন্ধানে নতুন ডিএনএ উদ্ভাবন

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র অর্থায়নে যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। মানবদেহে জীবনের ধারক ডিএনএ’র মতো অনু সম্বলিত একটি সিস্টেম উদ্ভাবন করেছেন তারা, যা তথ্য সংরক্ষণ ও প্রচার করতে পারবে।
এই নতুন মলিকিউলার সিস্টেম, নতুন জীবন দানে সক্ষম নয়, তবে অন্য গ্রহের প্রাণীরা দেখতে কেমন হবে, তার একটা ধারণা দেবে এই ডিএনএ সদৃশ সিস্টেম। মানবদেহে ডিএনএ হলো একটি জটিল অণু সম্বলিত ব্যবস্থা, যা বাবা-মায়ের মাধ্যমে তাদের সন্তানের শরীরে প্রতিস্থাপন হয়ে বিশেষ সব বৈশিষ্ট্য বহন করে। পৃথিবীতে জীবন বিকাশে এই ডিএনএ অবদান রাখে, যাতে চারটি নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা নিউক্লিওটাইড থাকে। যেমন- এডেনিন, সাইটোসিন, গুয়েনিন ও থাইমিন।
তবে অন্য গ্রহে যদি কোনো প্রাণী থেকে থাকে, তাহলে তাদের ডিএনএ কেমন হবে? সে প্রশ্নের উত্তর জানতেই নতুন এই উদ্ভাবিত ডিএনএর’র সহায়তা নেবেন বিজ্ঞানীরা। নাসা’র প্ল্যানেটারি সায়েন্স ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোরি গ্লেজ বলেন, ‘অন্য গ্রহে প্রাণী আছে কি না, তা অনুসন্ধান করা নাসা’র খুব গুরুত্বপূর্ণ এক লক্ষ্য। এই নতুন উদ্ভাবন নাসাকে প্রয়োজনীয় ইনস্ট্রুমেন্ট তৈরি ও গবেষণা চালানোর পথ দেখাবে।’
ফ্লোরিডার অ্যাপ্লায়েড মলিকিউলার ইভোলিউশন ফাউন্ডেশনের মূল গবেষক স্টিভেন বেনারের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা এমন এক ডিএনএ সদৃশ সিস্টেম উদ্ভাবন করেছেন, যাতে মানবদেহের ডিএনএ’র চারটি বিশেষ উপাদানের পরিবর্তে আটটি উপাদান থাকছে। এতে করে ওই অনু সম্বলিত সিস্টেম যেমন তথ্য সংরক্ষণ করবে, তেমনি তা স্থানান্তরও করতে পারবে।
বেনারের দল ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুল ও মিশিগানের ডিএনএ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একজোট হয়ে নতুন এই ডিএনএ উদ্ভাবন করেছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘হাচিমোজি’। জাপানি এই শব্দের হাচি মানে আট ও মোজি মানে অক্ষর। এর মানে আটটি উপাদান সম্বলিত এই ডিএনএ। বেনার বলেন, “হাচিমোজি ডিএনএ’র আকার, গঠন ও উপাদান সতর্কতার সঙ্গে গবেষণা করে আমরা জানতে পারবো অন্য গ্রহের ভিন্ন পরিবেশে ব্যতিক্রমী কোনো ডিএনএ আছে কি না।” তথ্যসূত্র: সাইটেক ডেইলি

Please follow and like us:
0