বুধ. মে ২২, ২০১৯

ভারতীয় বিমান সেনা অভিনন্দনের সামনে এখন কী?

ভারতীয় বিমান সেনা অভিনন্দনের সামনে এখন কী?

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হেফাজতে থাকার পর দেশে ফিরলেও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এখন ভারতীয় বিমান সেনা অভিনন্দন বর্তমানের সামনে। কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বুধবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২১ নিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ার পর ভূপাতিত হয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনের যুদ্ধবিমানটি, তিনিও ধরা পড়েন।
পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শান্তির বার্তা দিতে ভারতীয় এই পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন। শুক্রবার ওয়াগা সীমান্ত দিয়ে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এই বিমান সেনাকে। ফিরে আসার পরপরই একটি বিমানে করে রাজধানী দিলি¬তে নিয়ে যাওয়া হয় অভিনন্দনকে।
উৎকণ্ঠার প্রহর শেষে অভিনন্দনকে ফেরত পাওয়ার পর ভারতজুড়ে আনন্দের বন্যা বইলেও এই বিমান সেনার সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার।
সংবাদপত্রটি লিখেছে- ১৯৭০ সালে তৈরি পুরনো মিগ-২১ নিয়ে অত্যাধুনিক পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান এফ-১৬কে তাড়া করার জন্য প্রশংসা পেলেও শত্রুদেশের হেফাজত থেকে ফেরার পর এখন দফায় দফায় জেরার মধ্য দিয়ে যেতেই হবে তাকে। ভারতের বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিনন্দনের বিষয়ে এখন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি তালিকা তৈরি করেছে আনন্দবাজার। তাতে যা বলা হয়েছে-
>বেশ কিছু ডাক্তারি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে অভিনন্দনকে; দেখা হবে তিনি ফিট কি না? > বন্দিদের শরীরে অনেকসময় মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে আড়ি পেতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয় শত্রুপক্ষ। অভিনন্দনের শরীরে সেরকম কোনো চিপ বসানো হয়েছে কি না, তা স্ক্যান করে দেখা হবে। > মনোবিদের কাছেও নিয়ে যাওয়া হবে অভিনন্দনকে। বন্দি থাকা অবস্থায় ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য হাতাতে শত্রুপক্ষ তাকে অত্যাচার করেছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে। পাকিস্তানে কোনো ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিনা দেখা হবে তাও। > অভিনন্দনকে জেরা করতে আনা হতে পারে ইনটিলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) এর কর্মকর্তাদের সামনে। > পাকিস্তানে পা রাখা থেকে ওয়াগা সীমান্ত পার করা, গোয়েন্দাদের প্রতি মুহুর্তের সবিস্তার বর্ণনা দিতে হবে অভিনন্দনকে। বন্দি অবস্থায় তাঁর কাছে কী কী জানতে চাওয়া হয়, তা জানাতে হবে তাকে।> বুধবার তিনি বিমানে ওঠা থেকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিমান ভেঙে পড়া পর্যন্ত গোটা ঘটনার পুনর্র্নিমাণ করবেন গোয়েন্দারা। >পাকিস্তানি বাহিনী তার মিগ-২১কে নিশানা করতে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, তাও জানার চেষ্টা করা হবে। তার সঙ্গে থাকা কোন কোন নথি তিনি নষ্ট করতে পেরেছিলেন এবং কী কী নথি পাকিস্তানি সেনাদের হাতে পৌঁছেছে, তারও তালিকা তৈরি করা হবে। >শত্রুপক্ষের হাতে বন্দি ছিলেন অভিনন্দন। সেখানে তাকে আপসের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, তাকে ব্যবহার করার কোনো চক্রান্ত করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করবেন গোয়েন্দারা। এই গোটা পদ্ধতিকে সামরিক পরিভাষায় বলা হয় ‘ডিব্রিফিং’।
অভিনন্দন ফেরত আসায় খুশি হওয়ার কথা জানালেও তার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছুই বলেনি ভারতের বিমান বাহিনী। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তা আনন্দবাজারকে বলেছেন, “জেরা এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রমাণ না করতে পারলে, আর কোনোদিনই হয়ত যুদ্ধবিমানে সওয়ার হতে পারবেন না অভিনন্দন। সে ক্ষেত্রে ডেস্কের কাজে বসিয়ে দেওয়া হতে পারে তাকে।”
তবে অভিনন্দনের সঙ্গে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ যেন না হয় কিংবা তাকে যেন অসম্মানিত হতে না হয়, সে দিকে দৃষ্টি রাখা হবে বলে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সূর্য কিরণ অ্যাক্রোবেটিক টিম (এসকেএটি) এর সদস্য অভিনন্দনের বাবাও ভারতের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন।

Please follow and like us:
0