বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরের শেষে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অধিকাংশ ব্যাংক নির্বাচনের কারণে ঋণ বিতরণে ধীরে চলো নীতিতে এগুচ্ছে। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে ঋণ বিতরণ সীমা অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সীমার মধ্যে নিয়ে আসা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের তিনমাসের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। মাসটিতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাই মাসে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৮৭শতাংশ। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ শতাংশ কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে অর্থবছরের প্রথমার্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (এনসিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, নির্বাচনের আগে ঋণ গ্রহিতারা দেখেশুনে ঋণ গ্রহণ করছেন। একইসঙ্গে কিছু ব্যাংক সীমার অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করেছিল। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এডিআর মেনে ঋণ বিতরণ করছে। উল্লেখ্য, বেশ কয়েকটি ব্যাংক গত অর্থবছরের মার্চ প্রান্তিকে এডিআর সীমা অতিক্রম করে ঋণ বিতরণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোকে এডিআর সীমা ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশে এবং শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ৮৯ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে বেসরকারি খাতে মোট ৯১৮৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮০১২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন টাকা, চলতি বছরের আগস্ট মাসে বিতরণ হয়েছে ৯১০১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে আরও চারমাস সময় দিয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এডিআর সীমার মধ্যে আনার নির্দেশনা থাকলে পরবর্তীতে তা ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়লেও সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে গেছে। এটি সংসদ নির্বাচনের প্রভাব। নির্বাচনের পরে আবার ঋণ বিতরণ বাড়বে। বেসরকারি খাতে ঋণ কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। বেসরকারি খাতে ঋণ কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক সংকেত। এতে কর্মসংস্থান কমার সঙ্গে অর্থনীতির অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হয়।

Please follow and like us:
0