সোম. আগ ১৯, ২০১৯

বৃষ্টির অভাবে কুড়িগ্রামে অনাবাদি হাজারো হেক্টর আমনের জমি

বৃষ্টির অভাবে কুড়িগ্রামে অনাবাদি হাজারো হেক্টর আমনের জমি

Last Updated on

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বর্ষা মৌসুম শ্রাবণেও পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি নেই। এতে কুড়িগ্রামে অনাবাদি পড়ে আছে কৃষকের হাজার হাজার হেক্টর জমি। আকাশে কালো মেঘের গড়াগড়ি হলেও বৃষ্টির নাগাল না পাওয়ায় আমন চারা রোপণ নিয়ে এখানকার কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের অধিকাংশ আমন জমির মাঠ খা খা হয়ে পড়ে আছে। বৃষ্টি না হওয়ায় জমিগুলো ফেটে চৌচির হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় সময়মতো ধান চারা রোপণ না হওয়ায় বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষক বাড়তি পয়সা খরচ করে শ্যালোমেশিন ও বিদ্যুৎচালিত সেচের উপর ভরসা করে সেচের পানি দ্বারা আমন চাষে বাধ্য হচ্ছেন। তবে যাদের পয়সা আছে এমন শ্রেণির অল্প সংখ্যক কৃষককে সেচ দিয়ে ধান চারা রোপণ করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এছাড়া এখানকার হাজার হাজার কৃষক আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন কখন আকাশ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি ঝরবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি হলেই তারা আমন চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নামবে এই অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক স্থানীয় মুছল্লী পাড়া গ্রামের গোলজার হোসেন (৬৫) জানান, ‘আশা দেয় আল্লাহ বৃষ্টি ঝরায় না’। তার মতে আকাশে মেঘ হলেও বৃষ্টি না হওয়ায় তিনি আমন চাষি জমি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করার জন্য বীজ তলা তৈরি করেছেন। শ্রাবণ মাসের প্রথম দিকে জমিতে আমন চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হলেও বৃষ্টির নাগাল না পাওয়ায় তারা আমন বীজতলা নষ্টের উপক্রম হয়। এ অবস্থায় কৃষক গোলজার হোসেন বাধ্য হয়ে প্রতিবিঘা জমির জন্য এক হাজার টাকায় সেচ ভাড়া দিয়ে আমন চারা রোপণ করেছেন। এতে তাকে বোরো চাষের মতো করে পয়সা ব্যয় করতে হচ্ছে। সেনপাড়ার কৃষক চন্দ্রকান্ত সেন (৫৫) জানান, তার ৩০ শতাংশ আমন চাষি তিনি ট্রাক্টর দিয়ে এক চাষ করেছেন। বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথেই জমিতে পূর্ণাঙ্গ চাষ করে আমন চারা রোপণ করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চন্দ্রকান্ত সেন বলেন, তাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ে দিয়ে থাকেন। তিনিও বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করবেন বলেও জানান।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিমল কুমার দে জানান, এবার কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলা- রৌমারী, রাজীবপুর, চিলমারী, উলিপুর, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় আমনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭৩ হেক্টর জমি। বৃষ্টির পানির অভাবে কুড়িগ্রামে এখনও আমন চাষ পুরোদমে শুরু হয়নি। তবে বিভিন্ন সেচ দিয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপণ করা হয়েছে বলেও জানান উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিমল কুমার দে।

Please follow and like us:
2