বৃত্তির ডানায় বিশ্বখ্যাত ডিগ্রী’র স্বপ্নপূরণ

বৃত্তির ডানায় বিশ্বখ্যাত ডিগ্রী’র স্বপ্নপূরণ

Last Updated on

পমাছাব্বের হোসেন, ঢাকা : আমেরিকার ফুলব্রাইট বৃত্তির আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলবে পুরো জুন মাস জুড়ে। সুযোগ সন্ধানীদের কাজে লাগানোর সুবর্ণ সময় এখনই। তাই অবিলম্বে শুরু করতে হবে এখনই। তবে কিভাবে অগ্রসর হবেন জানতে পড়ুন নি¤েœর অভিজ্ঞতাগুলো।

আর্থিক অসচ্ছলতা, নানামুখী প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে নিজেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যোগ্যভাবে গড়ে তুলতে চাই অসীম ধৈর্য, অদম্য মানসিকতা আর কঠোর পরিশ্রম। প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ মো. শাকিল আহমেদ সব বাধা ডিঙিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন নানামুখী যোগ্যতায়। তিনি একাধারে যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট স্কলার, সিএফএ চার্টার্ড, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ডিগ্রিধারী, অর্থনীতিতে মাস্টার্স। অর্থনীতি ও ফিন্যান্স জগতে নিজেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে প্রতিষ্ঠিত করতে করছেন গবেষণা। ফুলব্রাইট স্কলারশিপের প্রস্তুতি, আবেদনপ্রক্রিয়া, তাঁর নানামুখী কর্মকান্ড, পড়াশোনা, নিজেকে ধাপে ধাপে গড়ে তোলার প্রস্তুতি ইত্যাদি নিয়ে কথা হয় জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোছাব্বের হোসেন এর সঙ্গে। নি¤েœ বিস্তারিত।
নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন
২০১৯-২০ সালের ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউটে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড বিষয়ে মাস্টার্স করছি। শুরুর দিকের পড়াশোনার কথা বলতে গেলে ২০০৮ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করি। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সে ভর্তি হই। ২০১৩ সালে বিবিএ পরীক্ষা শেষ করেই একটি স্থানীয় কোম্পানিতে যোগ দিই। দুই বছর পর ইউনাইটেড ফাইন্যান্সে যোগ দিই। চাকরির পাশাপাশি আইবিএ থেকে এমবিএ করি। কিন্তু বরাবরই অর্থনীতিতে আমার আগ্রহ ছিল। তাই এমবিএর পর ২০১৭ সালে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকোনমিকসে মাস্টার্সে ভর্তি হই। তার পাশাপাশি সিএফএ করা শুরু করি। ২০১৯ সালে সিএফএ চার্টার অর্জন করি।
ফুলব্রাইট বৃত্তি সম্পর্কে জানতে চাই, কেউ যদি করতে চায় তাহলে কী কী করতে হবে?
সাধারণত প্রতিবছর মে মাসে অনলাইনে ফুলব্রাইট বৃত্তির আবেদন চাওয়া হয়। এখন আবেদনের সময় চলছে। চলবে জুনের শেষ দিন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন শেষ করতে চাইলে একটু সময় নিয়ে আগেভাগেই আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করা দরকার। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, থিংকট্যাংক, এনজিও ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নবীন থেকে মধ্যম পর্যায়ের কর্মীদের এ বৃত্তিতে আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়। আর শুধু শিক্ষক বা বিসিএস ক্যাডাররাই এই বৃত্তি পাবেন, এ ধারণা একেবারেই ভুল। করপোরেট, এনজিও বা যেকোনো পেশার লোক এ বৃত্তি অর্জন করতে পারেন। কয়েকটি নির্দিষ্ট ফিল্ডে আগ্রহীদের আবেদন চাওয়া হয়। যেমন ব্যবসায় শিক্ষা, মৌলিক বিজ্ঞানের সাবজেক্ট, ইকোনমিকস, শিক্ষা,
পরিবেশ ও দুর্যোগ, ফ্যাশন ও টেক্সটাইলস, সাইকোলজি, নিরাপত্তা, সামাজিক বিজ্ঞান, সাহিত্য, ভাষা, জনপ্রশাসন ও পাবলিক পলিসি, নগর–পরিকল্পনা ইত্যাদির ওপর আগ্রহী ব্যক্তিরা আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করে দিতে পারেন।
ফুলব্রাইট বৃত্তিপ্রাপ্তদের নানা ধরনের সুবিধা দেয় আমেরিকান সরকার। টিউশন ফি, পড়াশোনার খরচ, যাতায়াতের বিমান ভাড়া, মাসিক একটি নির্দিষ্ট ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা, এবং বইপুস্তক ও আনুষঙ্গিক খরচ দিয়ে দেয়। প্রতিবছর এ বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রির সঙ্গে ২ বছর কাজের অভিজ্ঞতা লাগে। এর সঙ্গে টোফেলে ন্যূনতম ৮০ স্কোর অথবা আইইএলটিএসএ ৭.০০ থাকতে হয়। অনেকেই মনে করে, জিআরই ছাড়া আবেদন করা যায় না, তাঁদের ধারণা ভুল। আগে জিআ ই দেওয়া থাকলে সমস্যা নেই, তবে না থাকলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ফুলব্রাইট কর্তৃপক্ষের খরচে জিআরই দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
আবেদনের সঙ্গে পারসোনাল স্টেটমেন্ট, স্টাডি অবজেক্টিভ ধরনের কয়েকটি রচনা লিখে অনলাইনের আবেদন ফরমে আপলোড করতে হয়। সঙ্গে তিনটি রেকমেন্ডেশন লেটার, একটি রেজিউমে, টোফেল/ আইইএলটিএস স্কোরসহ আবেদন করতে হয়। নির্বাচিত হলে জিআরই পরীক্ষা দিতে হয়। আবেদনে রচনা অংশটুকু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভাইভাতে ডাকা পাওয়ার জন্য এটিকে যতেœর সঙ্গে লেখা উচিত। অনেক আবেদনকারী থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী বেছে নিতে রচনাগুলোর গভীরতা, সামঞ্জস্যতা, ক্যারিয়ার প্ল্যানের সঙ্গে মিল দেখা হয়। আবেদনে যদি কেউ দেখাতে পারেন, তিনি যে বিষয়ে পড়ার জন্য আবেদন করেছেন, তা তাঁর আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে সহায়তা করবে, তাহলে ফুলব্রাইট বৃত্তি পাওয়া সম্ভব।
ফুলব্রাইটে আবেদনের আগেই আমার জিআরই ও টোফেল দেওয়া ছিল। নির্বাচিত হওয়ার পর পুনরায় জিআরই দিই। জিআরই এবং টোফেল পরীক্ষা আপনার ইতিমধ্যে অর্জিত জ্ঞানের ওপর পরীক্ষা। কিন্তু ইচ্ছা করলে যেকোনো মুহূর্তে পড়াশোনা করে উন্নতি করতে পারবেন। যত আগে শুরু করা যায়, ততই ভালো। এই পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতিতে প্রধান সমস্যা হলো অতি ধীরগতির উন্নতি। তাই অনেকেই যথাযথ উন্নতি হচ্ছে না ভেবে হাল ছেড়ে দেন। তাই ধৈর্য রাখতে হবে, নিজের ওপর আস্থা রেখে অনেক বেশি প্র্যাকটিস করতে হবে। সব সময় গণিত ও ইংরেজির অল্প অল্প চর্চা থাকলে পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি খুব সহজ হয়ে যায়।
ফুলব্রাইটে ভাইভার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ভাইভাতেই আমার আবেদনপত্রের বিভিন্ন বিষয়, রেজিউমে এবং ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। নিজের ওপর আস্থা রাখা সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। নিজের শক্তির জায়গাগুলো ভালোভাবে জেনে যেতে হবে। ভাইভা বোর্ডে জানতে চায়, যা বলছেন তা সম্পর্কে আপনি নিজে নিশ্চিত কি না। এটা বোঝানো গেলে ভাইভার সফলতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। আবেদনে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইবে, কী পড়তে চান, কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে চান, সেটা কীভাবে পরে দেশে কাজে লাগাবেন, সেসব বিষয় জানতে চাইবে। আবেদনের সময় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় চয়েস দিতে হয়, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কেন চয়েস দেওয়া হয়েছে, সেটি গুছিয়ে ভালোভাবে বলতে হবে। সর্বোপরি আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে। ভালো ফল থাকলে ভালো, ফলাফল খারাপ হলেও অন্য বিষয়গুলো দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যায়।

Please follow and like us:
3
20
fb-share-icon20
Live Updates COVID-19 CASES