বৃহঃ. নভে ১৪, ২০১৯

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভাড়া বাবদই সরকারকে গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভাড়া বাবদই সরকারকে গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদ : প্রতি বছর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ বা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসাবে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা গুনতে হচ্ছে। বিগত অর্থবছরে বেসরকারি ৮৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপরীতে ভাড়া হিসেবে সরকারের ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আর এক বছরের ব্যবধানে ওই খরচ বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাড়া নিয়েছে ৩শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডিজেল চালিত কেন্দ্র এপিআর এনার্জি। ওই কেন্দ্রের পেছনে পৌনে পাঁচ শ’ কোটি ব্যয় করেছে সরকার। তাছাড়া খরচের শীর্ষ তালিকায় সামিটের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকার কেরানিগঞ্জে এপিআর এনার্জির মালিকানাধীন ৩শ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। মাস ছয়েক আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতা। অর্থাৎ কেন্দ্রটি প্রায় সারাবছরই একরকম অলস বসে ছিল। কিন্তু তার বিপরীতে সরকারের কাছ থেকে শুধু ভাড়া বাবদ নিয়েছে প্রায় পৌনে ৫শ’ কোটি। তাছাড়া সাড়ে ৩শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বৈত জ্বালানির সামিট মেঘনাঘাটও এই সময়ে নিয়েছে ৩৯০ কোটি টাকা। অথচ সেখান থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনতে পেরেছে সক্ষমতার মাত্র ৯ শতাংশ। অলস বসিয়ে রেখে ভাড়া পরিশোধের এই তালিকায় সামিটের আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৮৬টি বেসরকারি ভাড়াভিত্তিক এবং স্বাধীন কেন্দ্রের বিপরীতে কেবল ভাড়া হিসেবে সরকারকে গুনতে হয়েছে ৮ হাজার ৯শ’ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে দেড়শ’রও বেশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। মেখান থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ কেনা বাবদ খরচ হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তার মধ্যে কেবল ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ দেয়া হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি। আর অলস বসিয়ে টাকা গোনার এই হার এক বছরে বেড়েছে ৪০ শতাংশ বা পৌনে ৩ হাজার কোটি। অথচ একই সময়ে ওসব কেন্দ্রগুলোর প্লান্ট ফ্যাক্টর বা ক্ষমতার ব্যবহার কমেছে ৮ শতাংশ।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে মোট ১৯ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তার বিপরীতে সর্বোচ্চ উৎপাদন করা গেছে পৌনে ১৩ হাজার। প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদন করতে না পারায় এবং বিদ্যুত বিক্রি করতে না পারার কারণে প্রতিবছরই সরকারকে মোটা অঙ্কের লোকসান গুণতে হচ্ছে। যা সরকারের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে সঙ্কটে ফেলছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ওই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে যে ভর্তুকি রয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি খরচ দেয়াতেও তারচেয়ে ব্যয় কম হয়। বেশি ক্যাপাসিটি রাখাটা জরুরি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাা পরিকল্পনা করে হয়নি। বরং যখন বিদ্যুৎ উদপাদন করার আর প্রয়োজন নেই, তারপরেও অব্যাহতভাবে তেল বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ওই বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও তাদের ক্যাপাসিটি খরচ দিয়ে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে পাওয়ার সেল সংশ্লিষ্টরা জানান, শীতকালে দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও নিচে নেমে যাচ্ছে। আর গরমকালে তা চাহিদা দাঁড়ায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ শীতকালের চেয়ে গরমকালে বিদ্যুৎ চাহিদার তফাৎ তিনগুণ। কিন্তু সরকারকে ১৩ হাজার টার্গেট করেই কেন্দ্র বানাতে হচ্ছে। যার কারণে গড়ে প্লান্ট ফ্যাক্টর কমে আসছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, সরকার যখন টাকা দেয়, তখন সেখানে অপচয় বলতে কিছু নেই। বিদ্যুতের দামকে সুবিধাজনক করার জন্যই বিদ্যুৎ বিভাগকে ৬ হাজার কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে।

Please follow and like us:
3