মঙ্গল. জুন ১৮, ২০১৯

বস্ত্র খাতের ১৮ কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের গলার কাঁটা!

বস্ত্র খাতের ১৮ কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের গলার কাঁটা!

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে চলে পুঁজিবাজারের লেনদেন। বিনিয়োগকারীদের বিক্রয় চাপে শেয়ারের দাম কমলেও কোম্পানির ভাল খবরে নতুন করে চাহিদা বাড়ে। তাই আগের দর অতিক্রম করে নতুন দরের রেকর্ড গড়ে কোম্পানিগুলো। কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাজারের বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে।
এখাতে বিনিয়োগ করে বছরের পর বছর লোকসান গুনছে বিনিয়োগকারীরা। বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর তথ্য চিত্র পর্যালোচনা করে এমন তথ্য মিলেছে। তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বস্ত্র খাতে ৫৩টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও ১৮টির শেয়ার দর রয়েছে অভিহিত মূল্যের নিচে। ব্যবসায়িক দূরাবস্থা, উদ্যোক্তাদের নামমাত্র ডিভিডেন্ড ঘোষণার প্রবণতা, কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সংগ্রহ করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। ৮ এপ্রিলের সর্বশেষ শেয়ার দরের ভিত্তিতে তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিহিত মূল্যের নিচে রয়েছে আমান কটন ফেব্রিক্স, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, সিএনএ টেক্সটাইল, ঢাকা ডাইং, ডেল্টা স্পিনিং, ফ্যামিলি টেক্স (বিডি), ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, জেনারেশন নেক্সট, হামিদ ফেব্রিক্স, ম্যাকসন স্পিনিং, মেট্রো স্পিনিং, রেজেন্ট টেক্সটাইল, আরএন স্পিনিং, তাল্লু স্পিনিং, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, তুং-হাই নিটিং, জাহিন স্পিনিং ও জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০১৮ সালের প্রথম দিকে ৪০ টাকা দরে ২ কোটি ৮ লাখ ৩৩ হাজার শেয়ার বিক্রি করে পুঁজিবাজার থেকে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে বস্ত্র খাতের আমান কটন ফেব্রিক্স লিমিটেড। ওই বছরের ১৫ মে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে লেনদেন শুরু করে কোম্পানিটি। কিন্তু লেনদেন শুরু প্রথম দিকে কোম্পানিটির শেয়ার আকাশচুম্বী হলেও এখন অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে।
গত সোমবার (৮ এপ্রিল) দিনশেষে কোম্পানিটির শেয়ার ৩১.৪ টাকায় সর্বশেষ লেনদেন হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ ১১ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৮.৬০ টাকা। ১০ টাকা ফেস ভেল্যুর সাথে ১৭ টাকা অধিমূল্যে ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে আসে ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড। তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটির মুনাফার উল্লম্ফন হলেও তালিকাভুক্তির পর মুনাফার চমক হারায় কোম্পানিটি। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার ১৪.৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৫ সালে ২৬ টাকা অভিহিত মূল্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তর পরে বস্ত্র খাতের এ কোম্পানিটিরও মুনাফার চমক কমে যায়। ফলে, অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছে কোম্পানিটির শেয়ার। ৮ এপ্রিল (সোমবার) কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ১৮.৭ টাকায় লেনদেন হতে দেখা গেছে।
এদিকে, রিজেন্ট গ্রুপের রিজেন্ট টেক্সটাইলেরও একই অবস্থা। বস্ত্র খাতের কোম্পানিটির শেয়ার বর্তমানে ১৪.৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। কিন্তু কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৫ টাকা দরে শেয়ার সংগ্রহ করেছে। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও অধ্যাপক আবু আহমেদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, অনেক কোম্পানি শুধুমাত্র টাকা উত্তোলনের জন্য পুঁজিবাজারে আসে। এরা আইপিওতে আসার আগে অডিটর ও ইস্যু ম্যানেজারদের সহযোগিতায় অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখিয়ে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে। তিনি বলেন, তাই আইপিও শেয়ার লেনদেন শুরুর সাথে সাথেই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। বরং সামান্য সময় দেখে বা অন্তত ১ বছর কোম্পানির গতিবিধি নজর রেখে বিনিয়োগে যাওয়া উচিত।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, বিনিয়োগকারীদের আরো সর্তক হয়ে বিনিয়োগ করা উচিত। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা না করে বিনিয়োগে যাওয়া উচিত নয়।

Please follow and like us:
2