বন্যা পরিস্থিতি ফের অবনতির দিকে

প্রত্যাশা ডেস্ক : দেশে বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। নতুন করে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে আত্রাই নদীতে। এ নিয়ে মোট পাঁচটি নদীর পানি পাঁচটি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তাদের তথ্যানুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, সিংড়া পয়েন্টে গুড় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, আত্রাই পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর এবং লরেরগড় পয়েন্টে যদুকাটা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদনদীর অবস্থা তুলে ধরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে উজানে ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। এদিকে মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকায় সারাদেশেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৩ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের জাফলংয়ে ১৩০, লালাখালে ৮০, রাঙ্গামাটিতে ৬৩, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১০, দিনাজপুরে ৭১, নাকুয়াগাঁওয়ে ৬১, পঞ্চগড়ে ১০৯, ভৈরব বাজারে ৭০, কুমিল্লায় ৬০, ডালিয়ায় ৯৬, নরসিংদীতে ৬৩ এবং ছাতকে ৫৮ মিলিমিটার। একই সময়ে উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে চেরাপুঞ্জিতে ২০২, ধবরিতে ৫৯, পাসিঘাটে ৯৯, আগরতলায় ৫৪, জলপাইগুড়িতে ৮৪ ও দার্জিলিংয়ে ৩৬ মিলিমিটার।

Please follow and like us: