বছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা

বছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে সদ্যবিদায়ী (২০১৯-২০২০) অর্থবছর পার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এনবিআর-সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকার বিপরীতে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বছর শেষে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৩.৭৯ শতাংশ। যেখানে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। এই হিসাবে পূর্ববর্তী অর্থবছরের চেয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ৮ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। যদিও ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছিল।
জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত এনবিআরের সর্বশেষ সাময়িক হিসাব অনুয়ায়ী সবচেয়ে মূল্য সংযোজন করে (ভ্যাট/মূসক) রাজস্ব আদায় হয়েছে। যার পরিমাণ ৮১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এরপরে আয়করে ৭৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর কাস্টমসে ৬০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
অথচ গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ভ্যাট, আয়কর ও কাস্টমসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল পর্যায়ক্রমে ৮৭ হাজার ৬১০ কোটি, ৭২ হাজার ৯০০ কোটি এবং ৬৩ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ভ্যাটে ৬.৮৬ শতাংশ, কাস্টমসে ৪.৩৯ শতাংশ ও আয়করে ০.৪১ শতাংশ কমেছে।
এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একটি বার্তাসংস্থা জানায়, ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হবে, তা আগেই আশঙ্কা করা হয়েছে। কারণ প্রকৃত চিত্র মেনে নিতে হবে। করোনার প্রভাবে উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি কিংবা পণ্য ক্রয়-বিক্রয় সব কিছুই ছিল হতাশাজনক। দীর্ঘদিন লকডাউন কিংবা সাধারণ ছুটির কারণে অর্থনীতি ছিল স্থবির। চেয়ারম্যানও এই বিষয়ে আগে অর্থ মন্ত্রণালয়কে আভাস দিয়েছিলেন। তবে, চূড়ান্ত হিসাবে সাময়িক হিসাবের তুলনায় রাজস্ব আদায় আর একটু বাড়বে।
এদিকে, চলতি বছরের মে মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘাটতি হওয়ার আগাম সতর্কতা জানিয়েছে চিঠি দিয়েছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এনবিআর চেয়ারম্যান গত ১৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে চিঠি দেন।
সেই চিঠিতে জানিয়েছিলেন, এনবিআরের চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে না। আর ২০২০-২১ অথর্বছরেও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বেশি দিলে তাও অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। চিঠিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে এনবিআরের রাজস্ব আদায় কম হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে আদায় কমবে প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রায় ১৬.২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে অর্থনীবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘আমি বরাবর বলে আসছি, লকডাইন দিয়ে অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তাই লকডাউন তুলে দেওয়ার পক্ষে ছিলাম। কারণ রাজস্ব আদায় পুরোই গতিশীল অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে। আমদানি-রপ্তানি কিংবা ক্রয়-বিক্রয় যদি বন্ধ থাকে, তাহলে রাজস্ব কোথা থেকে আসবে? স্বাভাবিক পরিবেশ না দিয়ে কেবল প্রণোদনা দিয়ে অর্থনীতিও গতি পায় না, রাজস্বও আদায় হয় না। এটা অপ্রত্যাশিত নয়।’ এনবিআরকে দোষারোপ করে লাভ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Please follow and like us:
3
20
fb-share-icon20
Live Updates COVID-19 CASES