সোম. জানু ২০, ২০২০

ফেরদৌসকে ছাড়াই ভারতে শুরু হচ্ছে ‘দত্তা’র শুটিং

ফেরদৌসকে ছাড়াই ভারতে শুরু হচ্ছে ‘দত্তা’র শুটিং

Last Updated on

বিনোদন ডেস্ক : ‘আমরা ফেরদৌসের জন্য অপেক্ষা করব। আশা করছি এই ঝামেলা ফেরদৌস কাটিয়ে উঠে আবার শুটিংয়ে ফিরবেন।’ গত ২৮ এপ্রিল প্রথম আলোকে বলেছেন, ভারতের বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিনি আরও বলেন, ‘ফেরদৌস আমার বহু বছরের বন্ধু। আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিকও। আমার চিন্তা, ওর যেন কোনো ক্ষতি না হয়।’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘দত্তা’ অবলম্বনে কলকাতায় তৈরি হচ্ছে চলচ্চিত্র। সেখানে ‘বিলাস বিহারি’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌস। এপ্রিল মাসে বোলপুরে ছবিটির শুটিংও করেছেন। নির্মাতাদের মতে, ছবির ১০ ভাগ শুটিং হয়েছে। ছবিতে বিজয়ার চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
ওই সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কানহাইয়া লাল আগরওয়ালের প্রচারণায় অংশ নেন ফেরদৌস। সেদিন তিনি রায়গঞ্জ আসনের করণ দিঘি থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত তৃণমূলের প্রচার মিছিলে অংশ নেন। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল তো বিদেশি তারকা এনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে তখন অভিযোগ করে রাজ্য বিজেপি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফেরদৌসকে তখনই ভারত ছাড়ার আদেশ দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার ভিসা বাতিল করা হয়। তখন ভারতের সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, দেশটিতে তাকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আজ শনিবার ভারতের ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ‘দত্তা’ ছবি থেকে ফেরদৌসকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন ‘বিলাস বিহারি’ চরিত্রে অভিনয় করবেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়। ছবির পরিচালক নির্মল চক্রবর্তী বলেছেন, ‘ফেরদৌসের জন্য আমরা প্রায় ছয় মাস অপেক্ষা করেছি। তার ভিসা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুই হলো না। শেষ পর্যন্ত বিলাস বিহারি চরিত্রে সাহেব চট্টোপাধ্যায়কে নিয়েছি। তাকে নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে আবার ছবিটির শুটিং শুরু করব।’ তিনি জানান, ফেরদৌসকে নিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে ছবিটির শুটিং করার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু ছবির যা বাজেট, তা দিয়ে সেই পরিকল্পনামতো কাজ করা সম্ভব না। সবকিছু মিলিয়েই ‘বিলাস বিহারি’ চরিত্রের জন্য সাহেব চট্টোপাধ্যায়কে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে ১৬ এপ্রিল পুরো বিষয় নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ফেরদৌস। তখন তিনি বলেছেন, ‘একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য একটি দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ কোনোভাবেই উচিত হয়নি। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সবাই আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’ ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম প্রকাশিত হয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘দত্তা’। ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘দত্তা’র নাট্যরূপ ‘বিজয়া’। এই উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৫১ ও ১৯৭৬ সালে ভারতে দুটি ছবি তৈরি হয়েছে। এবার একই উপন্যাস নিয়ে নির্মল চক্রবর্তী তার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন।
‘জীবনের জয়গান’- এ বিজয়ীদের সঙ্গে তিন গুণী
বিনোদন প্রতিবেদক : সেলিব্রিটিং লাইফ বা জীবনের জয়গানের ১২তম আসরে একঝাঁক তরুণ মেধারী পুরস্কৃত হলেন। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি মিলনায়তনে বসে এই আসর। এই আয়োজনে গীতিকাব্য বিভাগে পুরস্কৃত হলেন তপন বাগচী, রানা মাসুদ ও মহসিন আহমেদ। আলোকচিত্র বিভাগে শেখ মুহিরুদ্দিন, সোহেল চৌধুরী ও লিমন বড়ুয়া। চলচ্চিত্র বিভাগে ‘মিনালাপ’ সিনেমার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন সুবর্ণা সেঁজুতি। এই আয়োজনে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের তিন গুণী। তারা হলেন- সৈয়দ আব্দুল হাদী, সারাহ বেগম কবরী ও সৈয়দ জামিল আহমেদ। সম্মাননা পর্বে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক, সনদ ও অর্থমূল্যের চেক।
চলতি বছরের মে মাস থেকে ‘বাংলাদেশের লোক ঐতিহ্য’ বিষয়ের উপর শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। সারা দেশ থেকে আগ্রহীরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের গীতিকবিতা, আলোকচিত্র, এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দুটি বিভাগ থেকে তিনজন ও চলচ্চিত্রে একজনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে হাজির হন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহ্ফুজ আনাম, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় প্রমুখ। দেশীয় বিভিন্ন বিষয়বস্তুর উপর এক দশক ধরে হয়ে আসছে এই প্রতিযোগিতা। এবারের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের লোক ঐতিহ্য’। এই আসরের বিজয়ী গীতিকবিদের গান নিয়ে একটি লোক অ্যালবামও তৈরি হয়েছে। এতে থাকছে সৈয়দ আব্দুল হাদী, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, দিলরুবা খান, ফাহমিদা নবী, শোয়েব, ইভা ও সুকন্যা মজুমদারের গান। অ্যালবামের সবগুলো গানের সুরারোপ করেছেন ফাহমিদা নবী। সেলিব্রিটিং লাইফ বা জীবনের জয়গানের আয়োজক যৌথভাবে দ্য ডেইলি স্টার ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

Please follow and like us:
3