শনি. সেপ্টে ২১, ২০১৯

ফলের রস থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকি

ফলের রস থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকি

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : অতিরিক্ত ফলের রস পান করাও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। ফরাসি একটি গবেষণার ফলাফল থেকে জানানো হয়, চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের মতো যে কোনো ধরনের মিষ্টি পানীয় পানের সঙ্গে ক্যান্সার হওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। ক্যান্সার ও চিনিযুক্ত পানীয়র মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে এটাই প্রথম উলে¬খযোগ্য একটি গবেষণা যা এই দুটির মধ্যে নির্দিষ্ট একটি সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে।
কোলা, লেমোনেইড, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি কোমল পানীয়ের সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে অনেক আগেই, যা ক্যান্সারের একটি অন্যতম কারণ। তবে ফরাসি এই গবেষকরা বলছেন, চিনি যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, তার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।
চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ‘বিএমজে’তে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে কোমল পানীয় ও ফলের রস দুটির মধ্যে সম্পর্ক সমপরিমাণ শক্তিশালী। সকল মিষ্টিজাতীয় পানীয়কে শতভাগ ফলের রস আর অন্যান্য কোমল পানীয় এই দুইভাগে ভাগ করলে দেখা যায় গড় হিসেবে দুটোতেই আছে উলে¬খযোগ্য ক্যান্সারের ঝুঁকি।
ফ্রান্সের জাতীয় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘ইনসার্ম’য়ের গবেষক ডা. মাথিলডা তোভিয়ের এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন।
তিনি বলেন, ‘চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে আসল কথা তা পান বন্ধ করা নয়, বরং নিয়ন্ত্রণে রাখা। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ এমন একাধিক সংস্থা প্রতিদিন একটিরও কম কোমল পানীয় পানের পরামর্শ দেয়। তাই কালেভদ্রে চিনিযুক্ত পানীয় পান করা ক্ষতিকর হবে না। তবে প্রতিদিন এক গ¬াস করে পান করলে তা ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আর শুধু ক্যান্সার নয় আরও অনেক রোগের ঝুঁকিও দেখা দেবে।’
তোভিয়ার আরও বলেন, ‘ক্যান্সারের ঝুঁকির পেছনের মূল হোতা এখানে চিনি। ১০০ মি.লি.লিটার কোমল পানীয় কিংবা কমলার রস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে দুটোতেই চিনির পরিমাণ প্রায় সমান। আর ক্যান্সারের ঝুঁকির ক্ষেত্রে কোমল পানীয় ও ফলের রস সমান দায়ী হওয়ার কারণ এখানেই স্পষ্ট।’
গবেষণাটি পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক, তাই গবেষকরা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছেন না যে চিনিই ক্যান্সারের কারণ। আর তাই এবিষয়ে বিস্তারিত গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গবেষকদের মতে, শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন- অগ্ন্যাশর, যকৃত ইত্যাদির চারপাশে জমা ‘ভিসেরাল ফ্যাট’, রক্তে শর্করার মাত্রা ইত্যাদির উপর চিনির প্রভাব মিলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয় দীর্ঘমেয়াদি এক পুষ্টিবিষয়ক জরিপের মাধ্যমে, যার নাম ‘নিউট্রিনেট-সানতে’। এতে অংশ নেয় ১ লাখ ০১ হাজার ২শ’ ৫৭ জন প্রাপ্ত বয়স্ক ফরাসি নাগরিক। যার মধ্যে ৭৯ শতাংশই নারী। অংশগ্রহণকারীরা কমপক্ষে দুটি ২৪ ঘণ্টার পুষ্টিবিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এই প্রশ্নোত্তর পর্ব এমনভাবে সাজানো যা অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন গ্রহণ করা প্রায় ৩ হাজার ৩শ’ ধরনের খাবার ও পানীয়ের মাত্রা পরিমাপ করবে। অংশগ্রহণকারীদের সর্বোচ্চ নয় বছর ধরে এই পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়। এই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২শ’ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৬৯৩টি ছিল স্তন ক্যান্সার। গবেষকরা দেখেন, চিনিযুক্ত পানি পানের মাত্রা ১শ’ মি.লি.লিটার বাড়লেই সব ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে ১৮ শতাংশ আর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ২২ শতাংশ। কৃত্রিম চিনি ব্যবহারের সঙ্গে ক্যান্সারের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে কৃত্রিম চিনি ব্যবহারকারীর সংখ্যা এত কম ছিল যে তা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছেন না গবেষকরা।
যুক্তরাজ্যের টিসাইড ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের ডা. অ্যামেলিয়া লেইক বলেন, ‘এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন পরিষ্কার। আবার খাবার ও পানীয় গ্রহণের মাত্রা সংগ্রহ করাও কঠিন কাজ। তবে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও তার প্রমাণটাও পরিষ্কার। তাই চিনি গ্রহণের পরিমাণ কমানো অত্যন্ত জরুরি।’
‘ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন’স ক্যান্সার ট্রায়াল সেন্টার’য়ের জ্যেষ্ঠ পরিসংখ্যানবিদ ড. গ্রাহাম হুইলার বলেন, ‘পর্যেবক্ষণটি বিস্তৃত, সুবিন্যাস্ত এবং ঝুঁকি প্রমাণের জন্য তথ্য-প্রমাণও রয়েছে।’ তবে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু তথ্য প্রমাণ চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ করার সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পৃক্ততা পেলেও ‘কোলোরেক্টাল’ বা ‘প্রোস্টেইট’ ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক এই পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায়নি। তাই জৈবিক কার্যপদ্ধতিতে চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ক্যান্সার হওয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’

Please follow and like us:
2