রবি. অক্টো ২০, ২০১৯

প্রিয়া সাহা টক অব দ্য কান্ট্রি

প্রিয়া সাহা টক অব দ্য কান্ট্রি

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে কথা বলেন। এতে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে প্রিয়া সাহা নামের এক নারী ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে (বাংলাদেশে) ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ডিসঅ্যাপেয়ার (নিখোঁজ) হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনো সেখানে (বাংলাদেশে) ১৮ মিলিয়ন (এক কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু আমাদের (বাংলাদেশে) থাকতে সাহায্য করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’ এ সময় ট্রাম্প জানতে চান, ‘কারা জমি দখল করেছে? কারা বাড়ি দখল করেছে?’ জবাবে ওই নারী বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে। তারা সব সময় পলিটিক্যাল শেল্টার (রাজনৈতিক ছত্রছায়া) পায়।’
হোয়াইট হাউজের ওয়েব সাইটের বিবৃতিতে বাংলাদেশি ওই নারীকে মিসেস সাহা পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যায় ওই নারীর নাম প্রিয়া সাহা। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি: প্রিয়া সাহার উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগ রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহার অভিযোগ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে পরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রিয়া সাহার বক্তব্য সম্পূর্ণই মিথ্যাচার। তিনি (প্রিয়া সাহা) হীন স্বার্থ উদ্ধার করতেই এ মিথ্যাচার করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্সটার্নাল পাবলিসিটি উইংয়ের উপপরিচালক (মিডিয়া) স্বাক্ষরিত এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গত ১৮ জুলাই প্রচারিত একটি ভিডিও বাংলাদেশ সরকারের নজরে এসেছে, যেখানে প্রিয়া সাহা নামের একজন বাংলাদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন বাংলাদেশ থেকে ৩৭ মিলিয়ন (তিন কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী ডিসঅ্যাপেয়ার (নিখোঁজ) হয়ে গেছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরো বলেছেন, মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীরা তাঁর জায়গা-জমি কেড়ে নিয়েছে। তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী যেন বাংলাদেশে বসবাস করতে পারে সে জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাহায্য চেয়েছেন।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, চলতি মাসের ১৬ থেকে ১৮ তারিখে ওয়াশিংটনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড মিনিস্টারিয়াল টু অ্যাডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেন প্রিয়া সাহা। প্রিয়া সাহার অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার প্রিয়া সাহার এ নির্জলা মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ করছে। পাশাপাশি প্রিয়া সাহার বক্তব্যের তীব্র নিন্দাও জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রিয়া সাহার এ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সাজানো গল্প বাংলাদেশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে বাংলাদেশের। বছরের পর বছর ধরে এখানে সর্ব ধর্ম-বিশ্বাসের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
হোয়াইট হাউজে প্রিয়া সাহার বক্তব্য তার নিজস্ব: রানা দাশগুপ্ত : বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, তাদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নিপীড়নের’ যে অভিযোগ করেছেন তা একান্তই তার নিজস্ব বক্তব্য, সংগঠনের নয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বুধবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ওই অভিযোগ করেন প্রিয়া সাহা। তার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন।
এদিকে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের প্রিয়া সাহা যেসব কথা বলেছেন, তা বাংলাদেশের হাজার বছরের চেতনা বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের দর্শনকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করার সামিল। প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশের শুভবোধসম্পন্ন সব মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ প্রিয়া সাহার এই মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ করছে। রাতে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধিকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠানো হয়েছিল। পরিষদের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অশোক বড়ুয়া ও নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী ছিলেন ওই প্রতিনিধি দলে। এর বাইরে আমাদের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না। রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা তিনি জেনেছেন গত শুক্রবার গণমাধ্যম থেকে। এর মধ্যে প্রিয়া সাহার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি বলেন, তিনি যা বলেছেন, এটা তার একান্ত নিজস্ব বক্তব্য, সাংগঠনিক বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত নয়। ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রিয়া আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর।
দেশে ফিরলেই প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : দেশে ফিরলেই প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে কোন উদ্দেশ্যে এবং কি কারণে করা হয়েছে, দেশে ফিরলে সেই বিষয়ে প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীতে তার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ দেওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য ও কারণ রয়েছে। দেশে ফিরলে আমরা নিশ্চয়ই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। তার উদ্দেশ্যটা কী, এটা আমাদের দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে নালিশের বিষয়টি চক্রান্তের অংশ ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘নালিশ সংক্রান্ত ভিডিওটি দেখলাম। এ ধরণের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। আমাদের বাংলাদেশটা প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমের ফলে আমরা পেয়েছি, যেটা কিনা বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিল। এই মহিলাটি আমাদের কাছেও কখনো এ ব্যাপারে আসেননি কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কাছেও যাননি। আমাদের পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ থাকেন যাতে কোথাও কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের শিকার না হন।’ মন্ত্রী আরও বলেন, এই মহিলা যা বলেছেন তা চক্রান্তের অংশ বলে মনে করছি। আমি এখনো বলব, কোথাও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমাদের বলুক বা পুলিশকে বলুক।’
প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে: কাদের : প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কাদের বলেন, ‘দেশের নাগরিক হয়ে দেশের বাইরে এরকম অসত্য উদ্দেশ্যমূলক এবং দেশদ্রোহী বক্তব্য, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে এবং সেই প্রক্রিয়া চলছে।’ গতকাল শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমন্ডলী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাথে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমি নিজেও শুনেছি। এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ অসত্য এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি নিন্দনীয় অপরাধই শুধু নয়, উসকানিমূলক বক্তব্য। যা দেশের অভ্যন্তরে লুকায়িত মতলববাজ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকেই আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।’
কাদের বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশের কোনো বিবেকবান দেশপ্রেমী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সাথে একমত হবেন না। আমিও তার সম্পর্কে অনেকের সাথে আলাপ করেছি, কথা হয়েছে, তারা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের বরাত দিয়ে কাদের বলেন, এই ধরনের বক্তব্যের কোনো সত্যতা নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার একটা পরিবেশ রয়েছে বাংলাদেশে। আমার মনে হয়, এ নিয়ে আর দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবকাশ থাকতে পারে না। প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক মানুষ সব ধর্মের সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করে। প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় হিন্দু সম্প্রদায় : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্যাতনের বিষয়ে যে অভিযোগ করেছেন তার এ বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় একমত নয় বলে জানিয়েছে শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘ। গতকাল শনিবার সংঘের আহ্বায়ক নকুল চন্দ্র সাহা ও সদস্য সচিব সুজন দে স্বাক্ষরিক এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়। বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার এ বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে প্রিয়া সাহা এ ধরনের অদ্ভুত ও অসত্য বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
প্রিয়া সাহার মন্তব্য আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ : ডিএমপি কমিশনার : সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া প্রিয়া সাহার মন্তব্য একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ডিএমপি কমিশনার বলেন, তিনি (প্রিয়া সাহা) যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। ইতোমধ্যে প্রিয়া সাহাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, প্রিয়া সাহার এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করছে। সমস্ত বক্তব্য, তথ্য-প্রমাণ তদন্ত সাপেক্ষে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা রথযাত্রা, উল্টো রথযাত্রা, দুর্গাপূজাসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন অনুষ্ঠান, বড়দিনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকি। সংখ্যালঘুদের ওপর কেউ যাতে নির্যাতন ও হামলা করতে না পারে সে জন্য আমরা তৎপর ভূমিকা পালন করে থাকি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে কারও জমি ছিনিয়েও নেয়ার মতো কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি।
ঢাকায় প্রিয়া সাহার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ : বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তোলার কারণে প্রিয়া সাহার ঢাকার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে একদল যুবক। শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে প্রিয়া সাহার বাড়ির সামনে ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’ ব্যানারে ২০-২৫ জন প্রথমে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনের পর তারা প্রিয়া সাহার বাসায় তালা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও পরে তা আর করেননি। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আব্দুল কাইয়ুম নামে এক শিক্ষানবীশ আইনজীবী বলেন, “প্রিয়া সাহা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। “তিনি সংখ্যালঘুদের কথা চিন্তা করে নয়, বরং তার যে দুই মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী তাদের নাগরিকত্ব পেতে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি অনেক কঠিন। তিনি মিথ্যাচার করে তার দুই মেয়ের নাগরিকত্ব নেওয়ার পথ পরিষ্কার করছেন।”
‘শারি’ নামে বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক প্রিয়া সাহা ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। পিরোজপুরের মেয়ে প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা। তাদের দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শুভ অধিকার নামে আরেক জন বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা সব ধর্মের লোক মিলেমিশে বসবাস করছি। “৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু খুন ও গুমের যে তথ্য দিয়ে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছেন, তা আমরা মানতে পারিনি। তাই আমাদের অবস্থান জানাতে তার বাসার সামনে দাঁড়িয়েছি।”
প্রিয়া সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি : যুক্তরাষ্ট্রে প্রিয়া সাহা যে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন সে জন্য তাকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ফিউচার অব বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান। প্রিয়া সাহার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বাতিল দাবি করে নেতারা বলেন, তাদের দাবি না মানা হলে এ সংগঠন সারা বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত করে আন্দোলনে যাবে। কারণ দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন প্রিয়া। বক্তারা বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এখন পর্যন্ত প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা বা বিবৃতি দেয়নি। ওই সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দের ঘটনার সাথে যোগসুত্র আছে কি না তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের নেতৃত্বে মানববন্ধনে সাধারণ সম্পাদক শওকত আজিজ, কে জি সেলিম, মহিউদ্দিন সজীব, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক, তানভীর আহমেদ, শাহজাহান কামাল, মুক্তার আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:
2