শুক্র. জানু ১৮, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুঃখের কথা বলেছেন বিএনপির অনেক প্রার্থী

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুঃখের কথা বলেছেন বিএনপির অনেক প্রার্থী

Last Updated on

বিশেষ সংবাদদাতা : বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু সন্ত্রাস, লুটপাট, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা এবং ব্যাপক হারে মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে তাদের এই ভরাডুবি। একই আসনের জন্য সকালে একজন, দুপুরে একজন ও বিকেলে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তাদের অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের দুঃখের কথা বলেছেন। একজন তো আমাদের দলে জয়েন করলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির যেসব প্রার্থী উইনেবল ছিল তারা কেউই মনোনয়ন পাননি। টাকা বেশি না দিতে পারায় তারা মনোনয়ন পাননি। সকালে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তার চেয়ে বেশি টাকা দেয়ার পর দুপুরে আরেকজন মনোনয়ন পান। বিকেলে তার চেয়ে বেশি টাকায় পাওয়ায় সকাল ও দুপুরের প্রার্থী মনোনয়ন থেকে আউট হয়ে যান। এভাবে যে দল মনোনয়ন দেয় তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে?
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যে আশা নিয়ে আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, যে আশা নিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছেন, আমরা তার প্রতিদান দেব, তাদের আশা পূরণ করব- ইনশাআল¬াহ।
৫ বছর চ্যালেঞ্জের: আগামী ৫ বছর নিজেদের জন্য চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরেই এই দেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হত। জাতির পিতা আজ নেই। কিন্তু তার আদর্শ আছে। আমরা তার আদর্শ অনুযায়ী দেশ গড়ে তুলতে চাই। শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন দেশের মানুষের জন্য কাজ করার। সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ গড়তে যেভাবে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন তাতে আর ১০ বছর দেশ চালাতে পারলে এ দেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হতো। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত তা করতে দেয়নি। তারা ৭৫ এর পর ২৯ বছর দেশ চালায়। এ সময় তারা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। যে কারণে, তারা তখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পর্যন্ত বাজাতে দেয়নি। যে ভাষণ তারা বাজাতে দেয়নি সে ভাষণ আজ জাতিসংঘের ইউনেস্কোতে স্থান পেয়েছে। বিশ্বের মানুষ ৭ মার্চের ভাষণ গ্রহণ করলেও বিএনপি-জামায়াত তা পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আদর্শ হলো- দেশের মানুষের জন্য কিছু করা। দেশের মানুষকে যদি উন্নত জীবন দিতে পারি, মানুষকে যদি ভালো রাখতে পারি. এর চেয়ে স্বার্থকতা আর কী হতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রহমতুল¬াহ এমপি ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

Please follow and like us:
2