বুধ. জুন ১৯, ২০১৯

‘প্রথম মঙ্গলকম্প শনাক্ত’ করেছে নাসার অনুসন্ধানযান

‘প্রথম মঙ্গলকম্প শনাক্ত’

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবোটিক অনুসন্ধানযান ‘ইনসাইট’ প্রথমবারের মতো মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠকম্পন শনাক্ত করেছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। এবারই প্রথম পৃথিবীর বাইরের কোনো গ্রহের পৃষ্ঠকম্পন মাপা হল, মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল)।
মঙ্গল গ্রহের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে ধারণা পেতে পাঠানো যান ইনসাইট ২০১৮-র শেষদিকে লাল গ্রহটিতে অবতরণ করে দুই বছরের মিশন শুরু করেছিল।
বিবিসি বলছে, মহাকাশযানটির পাঠানো দুর্বল কম্পনকেই ‘মঙ্গলকম্প’ হিসেবে বিবেচনা করছেন জেপিএলের বিজ্ঞানীরা। ৬ এপ্রিল, মঙ্গলে ইনসাইটের ১২৮তম মঙ্গলদিনে (যাকে সল বলা হচ্ছে) রেকর্ড করা ওই কম্পন পৃথিবীর দুই দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইনসাইটে স্থাপন করা ফ্রান্সের নির্মিত সিসমোমিটার ওই কম্পন শনাক্ত করে।
“আমরা এখনো কম্পনের পেছনের শব্দ সংগ্রহ করে চলেছি। এ ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মঙ্গলের ভূতত্ত্ব’ সংক্রান্ত নতুন একটি ক্ষেত্রের যাত্রা শুরু করলো,” সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই বলেছেন ইনসাইটের প্রধান অনুসন্ধানকারী ব্রুস বানেট। নাসার মহাকাশযানটির পাঠানো সংকেতের নানাধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কম্পনের যে সংকেত পাঠিয়েছে ইনসাইট তা ওই গ্রহের ভূ-অভ্যন্তর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাতাসের মতো ভূপৃষ্ঠের উপরের কোনো শক্তির কারণে এটি হতে পারে- বিজ্ঞানীরা এমন সম্ভাবনাকে বাতিল করেছেন। “হঠাৎ নড়াচড়ায় যেমনটা হয় তেমনই উচ্চ তরঙ্গ মাত্রা ও ব্রড ব্যান্ডের তথ্য পেয়েছি আমরা। এটা যে মঙ্গলকম্পই ছিল সে বিষয়ে আমরা সুনিশ্চিত,” ইমেইলে বলেছেন ফ্রান্সের প্যারিস দিদেরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যা ও গ্রহবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক ফিলিপ লগনন। রোবোটিক মহাকাশযানটি ৬ এপ্রিলের চেয়েও ৫০-১০০ গুণ বড় কম্পনও শনাক্ত করতে পারবে বলে ইনসাইট সিসমোমিটারের প্রধান এ গবেষকের প্রত্যাশা। নাসা এর আগে তাদের অ্যাপোলো মিশনে করে চাঁদে সিসমোমিটার পাঠিয়েছিল, যা দিয়ে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত হাজারো ‘চন্দ্রকম্পের’ তথ্য পাওয়া যায়।

Please follow and like us:
2