প্রতিক্রিয়া : মধ্যরাত। দীর্ঘ যানজট। ঢাকার মেগাসিটি হয়ে ওঠার যন্ত্রণা।

প্রতিক্রিয়া : মধ্যরাত। দীর্ঘ যানজট।

প্রখ্যাত চিকিৎসক চেম্বার থেকে ফিরছেন। ক্লান্তির চেয়ে বিরক্তি বেশি। গিন্নি একঘণ্টায় তিনবার ফোন করেছেন। ভালোবেসে নয়, কৈফিয়ত চেয়ে। শেষবার তো বলেই ফেললেন- এই বয়সে বাহানা ভালো লাগে না।
সময় কাটাতে মুঠোফোন বেশ কাজে আসে। ফেইসবুকে ঢুকলেন চিকিৎসক। স্ট্যাটাস দিলেন : ‘ইংরেজি ২৬টি অক্ষরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কোনটি জানেন? ডাব্লিউ। কেন জানেন? কারণ এ অক্ষরটি সবসময় টেনশন তৈরি করে। হোয়াট? হুইচ? হোয়াই? হোয়েন? হু? হুম? হোয়ার? ভেবেছেন শেষ? না, আরও আছে। ওমেন, বিশেষ করে ওয়াইফ।’
দিতে দেরি। শুরু হল লাইক আর কমেন্ট ঝড়।
দুই.
চিকিৎসকের বাসা। একমাত্র ছেলে পড়ছে। পাশে তার মাসি। পড়াশোনার তদারকিতে বসেছেন। তবে হাতে স্মার্টফোন। ফেসবুকে বরের সঙ্গে চ্যাট করছেন। হঠাৎ চোখে পড়ল ভগ্নিপতির স্ট্যাটাস।
এই দিদি দেখে যা তোর বর কী লিখেছে! নবপরিণীতা চিৎকার দিলেন।
দিদি হাতের কাজ ফেলে ছুটে এলেন। বললেন, কী হয়েছে? তোকে না বললাম, ওর পড়াটা একটু দেখিয়ে দে।
আরে, দিচ্ছি তো। তার আগে দ্যাখ তোর পতিদেবের কা-!
ফোন হাতে নিয়ে খুব মন দিয়ে স্ট্যাটাসটা পড়লেন চিকিৎসকের স্ত্রী। তার মুখ থেকে খসে পড়ল মাত্র দুটো শব্দ- আজ আসুক…।
কৌতূহলী ছেলে পড়া রেখে বলল, কী হয়েছে মা?
কিছু হয়নি। তুমি পড়ো।
ছেলে পড়তে শুরু করল। অ্যা পেঁপে অ্যা ডে, কিপ দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে। প্রতিদিন পেঁপে খাও, ডাক্তারকে দূরে তাড়াও।
চিকিৎসকের স্ত্রী চলে যাচ্ছিলেন। ছেলের কথায় থমকে দাঁড়ালেন। বললেন, আবার পড়ো তো।
কেন, ভুল হয়েছে মা?
না, পড়তে বলেছি পড়ো।
অ্যা পেঁপে অ্যা ডে, কিপ দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে। প্রতিদিন পেঁপে খাও, ডাক্তারকে দূরে তাড়াও। ছেলে আবার পড়ল।
একটু ভাবলেন চিকিৎসকের স্ত্রী। তারপর চেঁচিয়ে ডাকলেন বাসার গৃহকর্মীকে। সে এলে বললেন, কাল বাজারে গিয়ে অবশ্যই পেঁপে আনবে। এখন থেকে এ বাসায় প্রতিদিন পেঁপে রান্না হবে। আমরা সবাই সেটা খাব।
কেন দিদি? এবার মুখ খুললেন গৃহকর্ত্রীর বোন।
কেন বুঝিসনি, প্রতিদিন পেঁপে খাও, ডাক্তারকে দূরে তাড়াও। ডাক্তার ভেবেছে কী ? যা ইচ্ছে তাই লিখবে!
বোন এ কথা শুনে করুণ গলায় বলল, তোরা সবাই খাস দিদি। আমি কিন্তু কিছুতেই খাব না। আমাকে জোর করিস না প্লিজ।
দিদি মুচকি হাসলেন। বেড়াতে আসা তার বোনটির বিয়ে হয়েছে মাস পাঁচেক আগে। স্বামীর সঙ্গে চট্টগ্রামে থাকে। ওর বরও ডাক্তার। আগামীকাল সে এখানে আসছে। আদরের বোন তাই পেঁপে খায় কী করে!
ঠিক আছে তোর খেতে হবে না। দিদি অভয় দিলেন।
এবার বোন হাসলেন। দিদিও হাসলেন। খিলখিল করে।

Please follow and like us:
0