সোম. জানু ২০, ২০২০

প্রতারক স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর অনশন

Last Updated on

 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে ৩ দিন ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ও ছেলের বাড়িতে অনশন করছেন সাথী (২০) নামের এক অসহায় কলেজছাত্রী। সে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের ইউনুছ আলীর মেয়ে। কলেজ ছাত্রী আলুফা খাতুন সাথী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ৯ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণিতে পড়ালেখার সময় সে একই ইউনিয়নের বস্তুল গ্রামের মৃতঃ আব্দুস সামাদ দুদুর বাড়িতে লজিং থেকে বস্তুল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে।

এ সুযোগে মৃতঃ আব্দুস সামাদ দুদুর তার ছেলে সেলিম আহম্মেদের সাথে প্রেমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর এসএসসি পাস করার পর সাথী ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সিলেট সরকারী পলিটেকনিক কলেজে সুযোগ পেলে পারিবারিকভাবে তাকে সেলিমের সাথে সিলেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই সুযোগে প্রতারক সেলিম সাথীকে সিলেট নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঢাকা যাত্রাবাড়ী বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইসলামী শরিয়ত সম্মতভাবে তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে দু’জনেই স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দুজনার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে। তবে প্রতারক সেলিম ও তার পরিবার বিয়ের কথা গোপন রাখতে সাথীকে প্রভাবিত করে রাখে। এভাবে দুজনের স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে চলতে থাকে। এরমধ্যে হঠাৎ করে সাথী জানতে পারে সেলিমের আবারও পার্শ্ববর্তী পেঙ্গুয়ারী গ্রামে বিয়ে ঠিক হয়েছে।

ওইদিনই সাথী স্ত্রীর অধিকার আদায়ের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে সাথী সেলিমের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাকে নির্যাতন করে গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে অসহায় কলেজ ছাত্রী শুক্রবার তাড়াশ উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভানেত্রী মীর হোসনেআরা (ডেইজি মিলন) এর স্বরণাপন্ন হলে তিনি সাথীকে আইনগত সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন।

এখন সে স্ত্রীর অধিকার ফিরিয়ে পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ ব্যাপারে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম আমিনুল ইসলাম জানান, মেয়েটি মামলা করলে তাকে সকল প্রকার আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

Please follow and like us:
3