বৃহঃ. জানু ১৭, ২০১৯

প্রজনন আর নতুন প্রাণীর আগমনে চিড়িয়াখানায় ঈদ প্রস্তুতি

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের ঈদ বিনোদনের প্রধান কেন্দ্রস্থল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। বিশেষ করে ছোটদের জন্য এই বিনোদন কেন্দ্রটি অন্যতম হলেও ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এখানে সব বয়সী মানুষই ঘুরতে আসেন। তাই ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজনে সাজানো হয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা। নতুন কিছু প্রাণী আনা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর প্রজনন হয়েছে। দর্শনার্থীদের আরও বিনোদন দিতে দুটি উট ও কালো ক্যাঙ্গারু আনা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের ভোগান্তিবিহীন আনন্দ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সিসিটিভিসহ চার স্তারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রয়েছে আলাদা পার্কিং সুবিধা।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য ঈদের চাইতে এবার অনেক ভালো প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। চিড়িয়াখানায় অনেক প্রাণীর প্রজনন হয়েছে। তার মধ্যে জেব্রা, জিরাফ, ইমপাল, ৪০টি ইমু পাখির বাচ্চা, গয়াল, মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, ময়ূর, লাভ বার্ডসহ আরও কয়েকটি প্রাণী রয়েছে।
কিউরেটর বলেন, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে নতুন করে কয়েকটি প্রাণী আনা হয়েছে। তার মধ্যে চারটি আফ্রিকান সিংহ ও দুইটি কালো ভাল্লুক রয়েছে। ঈদের আগে আনা হবে ইন্ডিয়ান দুটি উট ও দুটি অস্ট্রেলিয়ার কালো ক্যাঙ্গারু। যা দেখে ছোট-বড় সকল বয়সী দর্শনাীর্থরা আনন্দ উপভোগ করবেন।
চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানান, ঈদে উপচেপড়া ভিড়ে দর্শনার্থীদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে ১১টি কমিটি করা হয়েছে। তারা আগত দর্শনার্থীদের সুবিধা দিতে সকাল ৮ থেকে সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এবার ঈদে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আগের চাইতে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ভাঙা খাঁচা ও সেড নতুন করে সংস্কার ও স্থাপন করা হচ্ছে। বাড়তি গাড়ি পাকিং সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানান, এদিন উপচে পড়া মানুষের ভিড়ে প্রাণীকূলের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে থাকে। এ কারণে চিড়িয়াখানার চারজন পশু ডাক্তার নিয়োজিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গরমে প্রাণীকূলকে নিরাপদ রাখতে বাড়তি পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তথ্য মতে, ১৮৬ একর জায়গা নিয়ে গঠিত দেশের সবচাইতে বড় মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসেন হাজারো দর্শনার্থী। চিড়িয়াখানায় রয়েছে মাংসাশী আট প্রজাতির ৩৮টি প্রাণী, ১৯ প্রজাতির বৃহৎপ্রাণী (তৃণভোজী) ২৭১টি, ১৮ প্রজাতির ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ১৯৮টি। এছাড়াও রয়েছে ১০ প্রজাতির ৭২টি সরীসৃপ, ৫৬ প্রজাতির ১১৬২টি পাখি, অ্যাকুরিয়ামে রক্ষিত ১৩৬ প্রজাতির ২৬২৭টি মৎস্য প্রজাতি। সব মিলিয়ে রয়েছে ১৩৭টি পশু-পাখির খাঁচা।
চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. নজরুল ইসলাম জানান, এবার ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় এক লক্ষাধিক দর্শনার্থীর আগমন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তাই পর্যটনসহ বিভিন্ন ধরণের খাবারের রেস্টুরেন্ট বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রাণীকূলের খাঁচা সংস্কার করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম ও তথ্য কেন্দ্রের সুবিধা রাখা হয়েছে। পুরাতন চিড়িয়াখানকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করে তোলা হয়েছে। চিড়িয়াখায় এসে দর্শনার্থীরা যাতে কাঙ্ক্ষিত বিনোদন পায় সেটিকে মাথায় নিয়ে প্রতিনিয়ত চিড়িয়াখায় সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানান কিউরেটর নজরুল ইসলাম।

Please follow and like us:
2