রবি. এপ্রি ২১, ২০১৯

প্যারোল খালেদা ও তার পরিবারের বিষয়: ফখরুল

প্যারোল খালেদা ও তার পরিবারের বিষয়: ফখরুল

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা নববর্ষের দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপিপ্রধান খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতে তার প্যারোল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে দলের প্রধানকে মুক্ত করতে দলের পক্ষ থেকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফখরুল।
গতকাল সোমবার সকালে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপি মহাসচিব।
গত রোববার পহেলা বৈশাখের দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ব্বিবিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দেখে এসে ফখরুল জানিয়েছিলেন, তাদের নেত্রী ‘অত্যন্ত অসুস্থ’। খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্যারোলের আলোচনা নিয়ে গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রথম হচ্ছে, প্যারোল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।” “প্যারোল আমাদের দলের বিষয় নয়। এটা বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিষয়। সুতরাং এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করি নাই। ”
সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্যারোল নয়, দলীয়প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তি চায়। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তার প্যারোলে মুক্তির মতো পরিস্থিতি হয়নি। হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সুচিকিৎসা ও মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য বেগম খালেদা জিয়া আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দল ও দেশের জনগণের যে ঐক্য, সেই ঐক্য যেন অটুট থাকে।”
সংসদে শপথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। আমরা তো এই সংসদকেই নির্বাচিত বলছি না, আমরা ওই কথিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি।” তিনি বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে আমরা আজকে শপথ নিয়েছি যে, আমরা আন্দোলন বেগবান করব। প্রতিটি আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ, ধরণ ও কৌশল থাকে। আন্দোলন বলতে শুধু হরতাল ও অবরোধ যদি বোঝেন, তাহলে আপনাদের এ বিষয়ের সঙ্গে আমরা একমত হতে পারি না। “আমরা আন্দোলন বলতে বুঝি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সোচ্চার হতে হবে, জনগণের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করতে হবে। এর জন্য আমরা কাজ করছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা মনে করি, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে আমরা সক্ষম হব এবং আমরা দেশ থেকে নির্বাসিত গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারব।”
উলামা দলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রধান মাওলানা শাহ নেছারুল হক, সদস্য সচিব মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারসহ নেতাকর্মীদের এসময় উপিস্থত ছিলেন।

জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

Please follow and like us:
0