রবি. অক্টো ২০, ২০১৯

পুঁজিবাজারে দরপতন ৫ম দিনে

পুঁজিবাজারে দরপতন ৫ম দিনে

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে সূচকের পতন টানা ৫ম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। টানা দরপতনে সূচক গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সর্বশেষ আট কার্যদিবসের মধ্যে সাতদিনই পুঁজিবাজার ছিল নিম্নমুখী। সূচকের টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এদিকে ১৩ জুন বাজেট ঘোষণার পর গতকাল ১১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত লেনদেন হওয়া গত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১২ দিনই সূচকের পতন হয়েছে। এই সময়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক হারিয়েছে ২২২ পয়েন্ট। একই সময়ে কমেছে আর্থিক ও শেয়ার লেনদেনের পরিমাণও। এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বাজেটে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিজার্ভ ও স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর কর আরোপ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি কিছুটা ভালো উদ্যোগ হলেও কোম্পানিগুলো ভালোভাবে নিচ্ছে না। ফলে পুঁজিবাজারে বাজেটের পর থেকেই এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৫৩টি কোম্পানির ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৬৫ হাজার ১৫৬ টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৮টির, কমেছে ২১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দাম। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২২ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৫৭ পয়েন্ট, ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৪ পয়েন্টে নেমে আসে। এদিন ডিএসইতে ৩৫১ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪০৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার। অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৬৩টি কোম্পানির ৫৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮০টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪টির, কমেছে ১৭৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির কোম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে সিএসইতে মাত্র ১২ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। আগেরদিন বুধবার সিএসইতে কেনাবেচা হয়েছিল ১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৯৭২ পয়েন্ট নেমে আসে। আগের দিন সিএসইর সূচক ছিল ১৬ হাজার ৩০পয়েন্ট।
দরপতনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ
টানা দরপতনে বিক্ষোভ করেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এ বিক্ষোভ করে। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এ বিক্ষোভ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানান। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, বিএসইসির এই চেয়ারম্যানকে দায়িত্বে রেখে শেয়ারবাজার ভালো করা যাবে না। আমরা বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চায়। তিনি বলেন, দরপতনের প্রতিবাদে আমরা রোজার ঈদের আগেও মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ করেছি। প্রতীকী গণঅশন করছি। শেয়ারবাজারের জন্য বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে। কিন্তু পতন ঠেকাতে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা যে দাবিগুলো জানিয়েছি তা বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে লাগাতার কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবো।

Please follow and like us:
2