মঙ্গল. জুন ২৫, ২০১৯

পুঁজিবাজারের সব সূচকেই উর্ধগতি

পুঁজিবাজারের সব সূচকেই উর্ধগতি

Last Updated on

পুঁজিবাজার : পুঁজিবাজারে নতুন বছরে সূচিত উর্ধমুখী ধারা গত সপ্তাহেও বজায় ছিল। আলোচিত সপ্তাহে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। আলোচ্য সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত সপ্তাহের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে বাজারের পরিণত আচরণ। এ সময়ে বাজারে যেন বড় উত্থান হয়েছে, একইসঙ্গে হয়েছে মূল্যসংশোধন। আলোচিত সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তিনদিন মূল্যসূচক বাড়লেও দু’দিন কমেছে। তথ্যমতে, গেলো সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৯২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৫১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এই হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৭৭৪ কোটি ১০ টাকা বা ১২৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় আগের সপ্তাহেও লেনদেন দিবস ছিল কম। নির্বাচন ও ব্যাংক হলিডের ছুটির কারণে ওই সপ্তাহে লেনদেন ২ দিন বন্ধ ছিল। লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩ দিন। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৯৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৭১৭ কোটি ১৮ লাখ লাখ টাকা।এ হিসেবে গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২৬৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবগুলো মূল্যসূচক বেড়েছে। ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স বেড়েছে ২০৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে তা ২০৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বেড়েছিল। সপ্তাহ শেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯৭ দশমিক ৩০ পয়েন্ট।
ব্যাংকের লেনদেন বাড়লেও শীর্ষে বস্ত্রখাত
কয়েকদিন ধরে বাড়ছে ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর। এর প্রভাব পড়েছে লেনদেনেও । তবে ব্যাংক খাতের লেনদেন বাড়লেও শীর্ষে উঠে এসেছে বস্ত্রখাত। দর বাড়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ব্যাংক খাত লেনদেনের নেতৃত্ব দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যমতে, গেলো সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ব্যাংকিং খাতের দখলে রয়েছে ১৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ সময়ে বস্ত্রখাতের ১৭ শতাংশ লেনদেন হয়ে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে। খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১৬৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর অধিকাংশ সময় বাজারে ব্যাংকের শেয়ার দর ইতিবাচক ছিল না। তবে ব্যাংক, বিমা, নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের মৌসুম সামনে রেখে নতুন বছরের শুরুতে এ খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে শেয়ার দর বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলেও ব্যাংক খাত অতীতের মতোই লেনদেনের নেতৃত্বে ফিরে আসবে। এদিকে, গেলো সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে প্রকৌশল খাতের লেনদেনে হয়েছে ১৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের লেনদেন হয়েছে ১১ শতাংশ। খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১০৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এছাড়া জ্বালানি খাতের ৮ শতাংশ, বিমা খাতের ৭ শতাংশ, বিবিধ এবং খাদ্য-আনুষঙ্গিক খাতের ৫ শতাংশ করে, আইটি খাতের ৪ শতাংশ, টেলিকমিউনিকেশন, সিমেন্ট ২ শতাংশ করে, চামড়া, সিরামিক, কাগজ-প্রকাশনা, সেবা-আবাসন, ভ্রমণ-অবকাশ খাতের প্রত্যেকের ১ শতাংশ করে লেনদেন হয়েছে।
গড় লেনদেন হয়েছে ৯৮৫ কোটি টাকার
সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৫ কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয়েছে ৯৮৫ কোটি টাকার। যা আগের সপ্তাহ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে গড় ৯৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে ২১৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বা ৩৭.৩৬ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছিল ৭১৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ২০৭ পয়েন্ট বা ৩.৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯৭ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪৭ পয়েন্ট বা ৩.৭২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩১৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৭০ পয়েন্ট বা ৩.৫৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১২ পয়েন্টে। ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে মোট ৩৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট হাত বদল হয়েছে। এর মধ্যে ২৬১টির বা ৭৫.২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে। এছাড়া দর কমেছে ৭৯টির বা ২২.৭৭ শতাংশ ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৭টির বা ২.০২ শতাংশের। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যার পরিমাণ এর আগের সপ্তাহে ছিল ১২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ১৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ১১২ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৯৯ পয়েন্ট বা ৩.৪৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭৬৬ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসসিএক্স ৩৫৯ পয়েন্ট বা ৩.৪৭ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ৫০ পয়েন্ট বা ৪.০৩ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ৬৪৮ পয়েন্ট বা ৪.৩৬ শতাংশ এবং সিএসআই ৪৪ পয়েন্ট বা ৩.৯০ শতাংশ বেড়েছে। গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের হাত বদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১২টির, দর কমেছে ৭৩টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির।
ডিএসইতে পিই ৩.৬৮ শতাংশ বেড়েছে
বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উত্থানে শেষ হয়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। সপ্তাহজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৩.৬৮ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৫.৬৮ পয়েন্টে। যা সপ্তাহ শেষে ১৬.২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.৫৮ পয়েন্ট বা ৩.৬৮ শতাংশ বেড়েছে।
সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১০.৬০ পয়েন্টে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২২.২৪ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ১৫.৫০ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৮.৩৮ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৬.৩৯ পয়েন্টে, বীমা খাতের ১৩.২৮ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ২০.৬৪ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ২০.৬৭ পয়েন্টে, চামড়া খাতের ১৫.৫৭ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ৩৯.০৯ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১.৩৯ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ২৫.৩৬ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ২৩.৫৪ পয়েন্টে, পেপার খাতের ২১.৫৪ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৫.৫০ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ১৪.৪৮ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ১৯.৯০ পয়েন্টে এবং পাট খাতের পিই ৪৪৬.৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
Ñবাণিজ্য ডেস্ক

Please follow and like us:
0