রবি. মে ১৯, ২০১৯

পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে ডিএসই’র পাঁচ প্রস্তাব

পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : দরপতনের সংকটাপন্ন পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে নতুন ফান্ডের যোগান এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে সংস্কারসহ পাঁচ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়। প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে, নতুন করে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ারের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ এবং প্লেসমেন্টধারীর সংখ্যা যেন ৫০জনের বেশি না হয়। কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ এবং কোম্পানির সম্মিলিত ৫০শতাংশ শেয়ার ধারণের নিয়ম যথাযথ পালন হচ্ছে কিনা তার দিকে কঠোর নজর দারি রাখা। পাশাপাশি উদ্যোক্তা-পরিচালকের শেয়ার সিডিবিএলে ব্লক করে রাখা। এই শেয়ার বিক্রির ক্ষমতা ডিএসইকে দেওয়া এবং পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের (এক্সপোজার লিমিট) সময় সীমা বৃদ্ধি করা। প্লেসমেন্ট শেয়ারকে রেগুলেশনের আওতায় আনা। আর প্লেসমেন্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানির শেয়ারের লক ফ্রি ট্রেডিং শুরু হওয়ার ১ বছর পর্যন্ত রাখা। এক্ষেত্রে শেয়ারগুলো সিডিবিএলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ রাখা। এছাড়াও নিটিং সুবিধা চালু করা, ব্রোকার হাউজের সার্ভিস বুথ চালু, সারাদেশে হাউজগুলোর শাখা খোলা, গ্রামীণফোনের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরোপিত কর জটিলতার সমাধান, ১০০ জনের মধ্যে প্লেসমেন্টে শেয়ার ইস্যু নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেন বিনিয়োগকারী এবং বাজারের স্বার্থে প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন। এমন আশ্বাস তিনি দিয়েছেন বলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কেএএম মাজেদুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বর্তমান অবস্থার কারণ এবং এই অবস্থা থেকে উত্তরণে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছি। কমিশন ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।’ ডিএসইর পরিচালক শরিফ আতাউর রহমান বলেন, ‘বিএসইসির সঙ্গে বাজারের সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার আলোচনা হয়েছে। কমিশন মনযোগ সহকারে আমাদের কথা শুনেছেন। আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। বাজারের স্বার্থে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।’ উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩ মাস দরপতন হয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৯৫০ থেকে ৬৯০ পয়েন্ট কমে ৫২৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীদের পুঁজি অর্থাৎ বাজার মূলধন কমেছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বাজার এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা রাজপথে নেমে এসেছেন। তারা নিয়মিত ডিএসইর সামনে পতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভও করছেন।

Please follow and like us:
0