শনি. জুলা ২০, ২০১৯

‘পাদ্রী আমাদের নগ্ন সাঁতরাতে বাধ্য করেন, গায়ে হাত দেন’

‘পাদ্রী আমাদের নগ্ন সাঁতরাতে বাধ্য করেন, গায়ে হাত দেন’

Last Updated on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চিলির কর্তৃপক্ষ সেদেশের রোমান ক্যাথলিক গির্জার ৩০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে। বলা হচ্ছে, এই ধর্মীয় নেতারা হয় যৌন নির্যাতন করেছেন, না হয় অভিযোগ ধামা চাপা দিয়েছেন।২০০০ সাল থেকে রোমান ক্যাথলিক গির্জার এসব নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এখন পর্যন্ত ২৬৬ জন, যাদের ৬৭ শতাংশই শিশু, অভিযোগ করেছে তারা পাদ্রী, বিশপদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত শুরু করেছে।এমনকি চিলির ক্যাথলিক গির্জার প্রধান কার্ডিনাল রিকার্ডো এজ্জাতির ওপর কলঙ্কের দাগ পড়েছে। সম্প্রতি এক বিচার বিভাগীয় তদন্তে বলা হয়েছে, কার্ডিনাল যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।এ বছরের গোঁড়ার দিকে চিলির ৩৪ জন বিশপকে রোমে ডেকে এনে পোপ ফ্রান্সিস নির্যাতন এবং ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা করেন। পাঁচজন বিশপ তখন পদত্যাগ করেন। বিবিসির কনস্তানজা ওলা গির্জা স্কুলের দু’জন প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেছেন; যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন। যে পাঁচ বিশপ পদত্যাগ করেছেন তাদের অন্যতম গোনজালো দুয়ার্তের সাথেও কথা বলেন বিবিসির সংবাদদাতা।১৯৯৩ সালে একটি ক্যাথলিক যুব দলের সদস্য ছিলেন মরসিও পালগার। চিলির মধ্যাঞ্চলের একটি ছোট শহরে এক প্রার্থণা সভার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। ফাদার এম (ছদ্মনাম) সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন।’এক রাতে ওই পাদ্রী তাদের জামা কাপড় খুলে সুইমিং পুলে নামতে বলেন। আমি এবং আমার এক বন্ধু অস্বীকার করি, কিন্তু ফাদার এম আমাদের ওপর জবরদস্তি শুরু করেন, তিনি বলেন, আমরা নগ্ন হচ্ছি না। কারণ আমাদের যৌন রোগ আছে।”এরপর ফাদার এম সুইমিং পুলে নেমে আমাদের গায়ে হাত দেয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সম্পর্কে আস্থা তৈরির জন্য, মর্যাদাবোধের জন্য এটা ভালো।’ দুমাস পর, পাদ্রি হওয়ার জন্য পড়াশোনা শুরু করেন মরিসিও। তিনি বলেন, গির্জার সেই স্কুলেও তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।তারা পেছনে থেকে জড়িয়ে ধরতো..বাঁধা দিলে রেগে যেত। চুম্বন করতে না দিলে তারা গালিগালাজ শুরু করতো। ফাদার ‘এইচ’ (ছদ্মনাম) নামে আরেক পাদ্রীর সাথে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলেন মরিসিওি। কাছের একটি শহরে ওই পাদ্রিকে কিছু কাজে সাহায্য করছিলেন।’তিনি আমাকে বলেন, কেন আমি সম্পর্ক করতে উদ্যোগী হচ্ছি না? আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না তিনি ঠিক কি বলছেন। তখন তিনি আমাকে বলেন, আমরা সবাই আসলে সমকামী এবং আমাদের সবকিছু উপভোগের চেষ্টা করা উচিৎ।’জুন মাসে পদত্যাগের আগে বিশপ দুয়ার্তে বিবিসিকে বলেন, তিনি শুনেছেন ফাদার ‘এইচের’ সমকামীতার সমস্যা রয়েছে, তবে সেসবে নাক গলানোর কর্তৃত্ব তার ছিল না।মরিসিও বলেন, ফাদার এইচ তাকে তার গির্জায় এক রাতে থাকতে বলেন, তিনি আমাকে কিছু পানীয় দিয়েছিলেন এবং তা খেয়ে আমি অসুস্থ বোধ করতে থাকি, তিনি তখন বলেন, আমার বিছানায় শুয়ে পড়ো।

‘আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। পরে ঘনঘন শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দে আমি জেগে উঠে দেখি তিনি আমাকে নির্যাতন করছেন। আমি হাত-পা ছুঁড়তে চেয়েও পারিনি। একসময় আমি একটি হাত ছাড়াতে পারি, কিন্তু তিনি তা ধরে ফেলেন এবং…’

কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসে মরিসিওর। তিনি তখন টাকা ভর্তি একটি ড্রয়ার খোলেন এবং বলেন আমি এখন তার চক্রের অংশ। আমি তাকে বললাম, আমি তা হতে চাই না এবং এরপর আমি বেরিয়ে যাই।

Please follow and like us:
2