নোনাজলের কোলাহল

নোনাজলের কোলাহল

মানুষ হ!
এবার নেমে এসো মাটিতে
চরণ ফেল আঁতুরঘরেতে!
ভুলে গেছ মানুষ তুমি
এই মাটিতেই জীবন আছে মিশে
শ্যামল শীতল ছায়ার শেকড়ে;
এই মাটিই যে মিশে আছে
তোমার ওই দেহের রক্ত মাংস হাড়ে।

ভুলে গেছ, নিঃশ্বাস নিতে আকাশতলে সবুজে
ভুলে গেছ যেতে পাহাড়ে ঝর্ণায়, বনে জঙ্গলে
রেখেছ পা মহাকাশের মহাশূন্যে
মহাকাশচারী হয়ে চাঁদে মঙ্গলে।
রেখেছ পা রকেট, বোয়িং কিংবা যুদ্ধ-বিমানে
ইট-পাথরে গড়া, কাঁচে ঘেরা সুরম্য দালানে।
ভুলে গেছো শোষিত নিপীড়িত গণমানুষের
অসংখ্য বিপ্লব, ঝরে যাওয়া অসংখ্য প্রাণ
অন্ধকারে নেমে আসা নোনাজলের কোলাহল
দুপুর-আকাশ পাড়ে নূয়ে পড়া নিস্প্রাণ অঘ্রাণ।

ভুলে গেছ পাল তোলা নৌকায় মাঝিদের গান
ঢেউ’র তালে ভেসে যাওয়া নাইওরির সাম্পান;
ভুলে গেছে প্রেম, প্রিয়ার মুখের লাজুক হাসি
মিষ্টি হাসির টোল পরা গাল, দুল পরা কান।
অঘ্রানের প্রান্তরে থৈ থৈ করে সোনা ধানক্ষেত
মাটি-ঘামে খড়কুটো লেগে থাকা মায়ের আঁচল
কোমড়ে বাধা বাবার গামছা, রোদে পোড়া মুখ
লালফিতে বাধা বোনের বিণুনি, লজ্জ্বার কাজল।

পা রেখেছ তুমি অস্ত্র-গুলি মেশিনগানে
লঞ্চ-স্টিমারে,জাহাজ আর সাবমেরিনে!
উঠেছ মেতে হত্যা খুনে হাতে হাত বদলে
রেখেছ পা বর্বর ধর্মান্ধতায়, ক্ষমতা দখলে
যেখানে নারীত্ব নিয়ে খেলা করে উলঙ্গ আদিমতা
প্রেমকে টেনে এনে করেছ সমাহিত ভুলে শালীনতা
এগিয়ে গেছ সমুদ্রের দিকে সাগরের প্রয়াণে
অবুঝ পতঙ্গ হয়ে ঝাপ দিয়েছ শ্মশানের উনুনে।

অনেক অশ্রুজল শুকিয়ে গেছে কবে
অনেক নদীর জল গেছে উবে
জীবনের আঁধার পাড়ে দেখো দাঁড়িয়ে
মৃত্যুর অদ্ভূত সূর্য উঠছে পুবে।

ফিরে এসো শেকড়ে খালি চরণ রাখ মাটিতে
এলিয়ে দাও দেহখানি প্রকৃতির সবুজ কোলেতে।
ফিরে এসো শান্তির নীড়ে ভালবাসার ঠিকানায়
যেখানে ফুল ফোটে, পাখিরা গান গায়।
যেখানে জোড়া ঘুঘু প্রেমের সাঁঝে
চুম্বন এঁকে দেয় একে অপরের ঠোঁটে
মরীচিকা জয় করে নাড়ির টানে এসো ছুটে
প্রেম ও প্রকৃতি-বীক্ষণের মাঝে।

Please follow and like us: