শনি. সেপ্টে ২১, ২০১৯

নিহত রায়হান জঙ্গিদের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ গাইবান্ধার চরে

Last Updated on

রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত নয়জনের মধ্যে অষ্টম জঙ্গি রায়হান কবির ওরফে তারেক নামের ওই তরুণ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের গাইবান্ধার চরে প্রশিক্ষণ দেন তিনি। আশুলিয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ছুরিকাঘাতে কনস্টেবল হত্যার ঘটনাতেও রংপুরের পীরগাছার শাহজাহান কবিরের ছেলে রায়হান জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কে তাজ মঞ্জিল নামের ছয় তলা একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযানে গিয়ে সোমবার রাতে হামলার মুখে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার ভোরে সেখানে সোয়াটের বিশেষ অভিযানে নিহত হন সন্দেহভাজন নয় জঙ্গি। তাদের মধ্যে সাতজনের আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহৃত আঙ্গুলের ছাপের মিলিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় পরিচয় প্রকাশ করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। তারা হলেন- দিনাজপুরের আব্দুল্লাহ (২৩), পটুয়াখালীর আবু হাকিম নাইম (২৪), ঢাকার ধানম-ির তাজ-উল-হক রাশিক (২৫), ঢাকার গুলশানের আকিফুজ্জামান খান (২৪), ঢাকার বসুন্ধরার সেজাদ রউফ অর্ক (২৪), সাতক্ষীরার মতিউর রহমান (২৪) এবং নোয়াখালীর জোবায়ের হোসেন (২২)। এদের মধ্যে সেজাদ রউফ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী। গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ এই
যুবক গুলশানে ক্যাফেতে হামলাকারী নিবরাজ ইসলামের বন্ধু ছিলেন। ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল বলেন, কল্যাণপুর অভিযানে নিহত জঙ্গি আকিফুজ্জামান (পিতা সাইফুজ্জামান) পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের নাতি। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। অর্ক এবং রাশিকও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আর রায়হান, আব্দুল্লাহ ও নাঈম পড়াশোনা করেছেন মাদ্রাসায়। রায়হান কবিরের ছদ্মনাম তারেক। সে আশুলিয়ার বারুইপাড়ায় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ছিল এবং পুলিশের খাতায় তার নাম লেখা ছিল তারেক বলে। তাকে পুলিশ খুঁজছিল। গত বছর ৪ নভেম্বর আশুলিয়ার বারুইপাড়া এলাকার একটি পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ছুরিকাঘাতে এক কনস্টেবলকে হত্যা ও চারজনকে জখম করে জঙ্গিরা। ব্রিফিংয়ে মনিরুল বলেন, রায়হান কবির গুলশান হামলাকারীদেরও প্রশিক্ষক ছিল। তাকে আমরা তারেক নামে চিনতাম। গুলশানে হামলার আগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের একটি চরে সাতজনকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে গুলশান হামলাকারীরাও ছিল। তাদের দুই প্রশিক্ষকের একজন ছিল রায়হান ওরফে তারেক। এ বছরের প্রথম দিকে জেএমবির কয়েকজন সংগঠক পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর সংগঠনটির ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন রায়হান ওরফে তারেক। দিনাজপুরের মোতালেব মাদ্রাসায় গিয়ে হন আব্দুল্লাহ: ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত নয় জঙ্গির একজন দিনাজপুরের
আব্দুল্লাহকে এলাকার মানুষ চেনে মোতালেব হোসেন নামে। তার বাবা ও ভাইকে লাশ শনাক্তের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে পুলিশ। আব্দুল্লাহর বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে। তবে ছোটবেলা থেকে পারবারিকভাবে তাকে মোতালেব হোসেন নামে ডাকা হত বলে তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, ১২ বছর আগে নওগাঁর সাপাহার আলাদি মাদ্রাসায় ভার্তি হওয়ার পর হুজুররা তার নাম পাল্টে রাখে আব্দুল্লাহ। গত মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার কল্যাণপুরের এক বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন নয় জঙ্গি নিহত হন। পরে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভা-ার থেকে পরিচয় উদঘাটন করে তার নাম ‘আব্দুল্লাহ’ বলে জানায় পুলিশ। আব্দুল্লাহ ওরফে মোতালেব চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে চতুর্থ। তার বাবা ও অন্য ভাইয়েরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক। নবাবগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, আব্দুল্লাহ নওগাঁর মাদ্রাসা থেকে তাওরা হাদিস পাস করার পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আইডিয়াল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে দাখিল ও আলিম পাস করার পর ফাজিলে ভর্তি হন। আব্দুল্লাহর প্রতিবেশী আবু তাহের, বন্ধু সোহেল রানা ও আবুল কাসেম বলেন, শান্ত প্রকৃতির আব্দুল্লাহ মাদ্রাসায় ভর্তির পর খানিকটা বদলে যান। আবু তাহের বলেন, এক বছর আগে একবার বাড়িতে এসে দোয়া করা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন আব্দুল্লাহ। নামাজে দোয়া করা যাবে না এই ফতোয়া দিলে তার সঙ্গে এলাকার লোকজনের ঝগড়া হয়। তারপর আর সে গ্রামে আসেনি।

Please follow and like us:
2