মঙ্গল. জুন ২৫, ২০১৯

নির্বাচন বাতিলের দাবি নাকচ, মামলা করার পরামর্শ

নির্বাচন বাতিলের দাবি নাকচ, মামলা করার পরামর্শ

Last Updated on

নিজস^ প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার জন্য বিএনপি যে দাবি তুলেছিল তা বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রয়োজনে তাদের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত ৪২তম বৈঠক শেষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে এ কথা জানান নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিশনার মাহবুব তালুকদার ছাড়া সবাই উপস্থিত ছিলেন। মাহবুব তালুকদার চিকিৎসার জন্য ভারত গেছেন।
বৈঠক শেষে সচিব বলেন, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত ৩ জানুয়ারি কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় বিএনপি। এরপর ৬ জানুয়ারি আরেকটি স্মারকলিপি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ সত্য নয় মর্মে স্মারকলিপি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কমিশন এগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করেছেন। তারা যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়, এগুলোর আর এখন করার সুযোগ নেই। যদি কেউ সংক্ষুব্ধ হয়, তাহলে তারা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা করতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আইনে এখনও আছে। হাইকোর্টে মামলার করার জন্য আলাদা বেঞ্চ আছে। ইতোমধ্যে তিনটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।
আসন ও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের বিষয়ে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে আসনভিত্তিক ফলাফল আছে। কিন্তু কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করা হয় না। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন ৫ ধাপে, শুরু মার্চে : সংসদ নির্বাচনের পর দুই মাস বিরতি দিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন; এবার ভোট হবে পাঁচটি ধাপে। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বলে গতকাল সোমবার কমিশন সভার পর সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা ও রমজান মাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে ভোট শুরু করা হবে। এ লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।’
বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ-মে মাসে ছয় ধাপে এর অধিকাংশগুলোতে ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এই নির্বাচন করতে হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে ছয় ধাপে ভোট করেছিল তৎকালীন ইসি। সেই ধারা বজায় রেখে এবার বিভাগওয়ারি ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সেক্ষেত্রে আট বিভাগের ভোট হবে চার দিনে; অর্থাৎ এক দিনে দুটি বিভাগে ভোট হবে। বাকি যেগুলো থাকবে, সেগুলোতে ভোট হবে পঞ্চম ধাপে। ইসি সচিব বলেন, ‘আট বিভাগের উপজেলাগুলোকে চার দিনে চার ধাপে ভোট করা হবে। বাকিগুলোর মেয়াদউত্তীর্ণ কবে হচ্ছে তা বিবেচনায় নিয়ে আরেকটি ধাপে ভোট শেষ করা হবে। সেক্ষেত্রে ৫ ধাপে ভোট করা হচ্ছে।’
উপজেলা ভোটেও ব্যবহার হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন। ইসি সচিব বলেন, জেলার সদর উপজেলায় পুরোপুরি ইভিএম ব্যবহার করা হবে। আগের উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও আইনটি তার পরে সংশোধন হওয়ায় এবার দলীয় প্রতীকে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন হবে। তবে এর আগে ২০১৭ সালের মার্চে মেয়াদোত্তীর্ণ তিনটি উপজেলায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়েছিল। দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও বিএনপি পরে নির্দলীয় উপজেলা ভোটে অংশ নিয়েছিল। ২০১৪ সালের ওই নির্বাচনের প্রথম তিন পর্বে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ীদের মধ্যে সংখ্যায় বিএনপি এগিয়ে ছিল। তবে পরের তিন পর্বে তাদের ছাপিয়ে যায় আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা। এবার সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও তারা ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ১৭ ফেব্রুয়ারি : নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের তফসিল আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। গতকাল সোমবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে ৪২তম কমিশন বৈঠক শেষে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে একথা বলেন তিনি।
সচিব বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের ভোটের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেয়া হবে। দলগুলো অন্য কোনো রাজনৈতিক দল না জোটের সঙ্গে নির্বাচন করবে- তা জানানোর জন্য বলা হবে। স্বতন্ত্র এমপিরা কীভাবে নির্বাচন করবেন তাও জানাতে বলা হবে। ৩০ জানুয়ারি মধ্যে অবহিত করবেন তারা -এককভাবে থাকবেন না জোটগতভাবে নির্বাচন করবেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ নির্বাচনের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ৫০টি সংরক্ষিত আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ওইদিন আপনারা জানতে পারবেন মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়।
জানা যায়, সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে দল বা জোট সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ পাবে। ৫০টি আসনের মধ্যে সংসদের সরাসরি নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুপাতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, ঐক্যফ্রন্ট ১টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে ২টি আসন পাবে। তবে দল ও জোটগুলো সমঝোতার মাধ্যমে আসন সংখ্যা কমবেশি করতে পারবে। সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের জন্য কমিশন দল ও জোটওয়ারি তালিকা তৈরি করবে এবং ভোটার তালিকা ইসিতে টানিয়ে দেবে। এমপিরা এই নির্বাচনে ভোটার। উল্লেখ্য, এসব আসনে ভোটের বিধান থাকলেও এদেশে এখনও কোনো ভোট হয়নি। কারণ দল বা জোটগুলো আনুপাতিক ভাবেই তাদের প্রার্থী দিয়েছে।

Please follow and like us:
0