রবি. এপ্রি ২১, ২০১৯

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধে সরকারকে চিঠি দেবে ইসি

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধে সরকারকে চিঠি দেবে ইসি

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনকারী রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ভোটের পর অহেতুক হয়রানি ও বদলি না করতে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৪৭তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া চার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর বেশ কয়েকজন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বদলি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। এই বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বৈঠকে নিজেই উপস্থাপন করেন। সূত্র আরো জানায়, সিইসি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করলে এরপর উপস্থিত সবাই তাতে সম্মতি প্রদান করেন। তখন একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, বদলি বা হয়রানির কাজ করছেন সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালীরা। তাঁদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করাতে এগুলো করছেন তাঁরা। পরে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হয়রানি ও বদলি না করতে সরকারকে চিঠি দেবে ইসি। নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব সময় কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দিয়ে থাকি। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হলে স্বাভাবিকভাবে তাদের কঠোর হতে হয়। সেই কঠোর হওয়া যদি ক্ষমতাশালীদের বিপক্ষে যায়, তখন তারা হয়রানি করতে চেষ্টা করতে পারে, বদলিও করতে পারে। তিনি বলেন, এসব কারণে গতকাল (গত সোমবার) কমিশন সভায় আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের কোনো কর্মকর্তাকে যাতে অযথা হয়রানি না করা হয়, সেই ব্যাপারে সচিবালয়কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রভাবশালীদের পক্ষে না গেলে তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। পরে ভোট শেষে তাঁরা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও বদলি করার চেষ্টা করেন। সে জন্য আমরা জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেব। যাতে তাঁদের কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হতে না হয়। চলমান পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের চার ধাপের ভোটে বেশ কয়েকজন ওসি ও এসপিসহ আরো কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছিল ইসি। নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো একটি পক্ষকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এরপর সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

Please follow and like us:
0