বৃহঃ. আগ ২২, ২০১৯

নারীদের স্বামীর চেয়ে বন্ধু বেশি জানে

নারীদের স্বামীর চেয়ে বন্ধু বেশি জানে

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : আপনার জীবনসঙ্গীর চেয়ে আপনার কাছের বন্ধুই আপনাকে ভালোভাবে জানে ও চিনে। জীবনসঙ্গীর তুলনায় দুজন নারী বন্ধু একে অপরের মনের খবরাখবর বেশি রাখেন। দ্য বুক অব এভরিওয়ানে ফিমেল ফ্রেন্ডশিপ নামের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।
প্রতি চারজন নারীর একজন জানিয়েছেন, তাদের নিজের সঙ্গীর চেয়েও তাদের মেয়ে বন্ধুরা তাদেরকে বেশি কাছ থেকে জানে। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন নারীর জীবনে ৬ জন খুব ভালো বন্ধু থাকে এবং রোমান্টিক সম্পর্কের চেয়েও তাদের সম্পর্কের স্থায়িত্ব বেশি। নারীদের বন্ধুত্বের গড় জীবনকাল ১৬ বছর, যদিও তা রোমান্টিক সম্পর্কের ১০ বছর স্থায়িত্বকালের তুলনায় ৬ বছর বেশি বলে মনে হয় না।
মনোবিজ্ঞানী ব্রিয়ানা জেইন সাডা ব্যাখ্যা করেন, মানুষ একইসঙ্গে চাপ ও প্রত্যাশার সঙ্গে তাদের রোমান্টিক সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে। যখন জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না তখন খুব দ্রুত বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে আদর্শ বন্ধুত্বে চাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষা কম থাকে। সে হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই আমরা খুব কম নিরাশ হই। যখন আমরা আমাদের বন্ধুর ভুলকে দেখেও না দেখার ভান করি এবং তাদেরকে দ্বিতীয়, তৃতীয় এমনকি চতুর্থবারের মতো সুযোগ দেই তখন বিষয়টি দাড়ায় জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার মতো।
সাডা বলেন, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে আমরা অনেক সময় ব্যয় করতে চাই কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষীণ হতে থাকে। অর্থাৎ একথা বলাই যায় যে, ভালোবাসা আসে আর যায়। কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্ব চিরজীবনের জন্য থাকে। কম করে হলেও ৬ বছর।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, শতকরা ৫০ ভাগ নারী তাদের কাছের বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। প্রতি ১০ জনের ১ জন তাদের জীবনসঙ্গীর তুলনায় সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে বেশি আনন্দ করে। এটা কি একটু হলেও দুঃখজনক নয়? নারীদের কি তাদের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে আমোদপূর্ণ সময় কাটানো উচিত নয়? মনোবিজ্ঞানী সাডা বলেন, হ্যাঁ, এটা দুঃখজনক। তবে এটা সত্যিই যে, অনুপস্থিতি মানুষকে অনেক বেশি আসক্ত ও অনুরাগী করে তোলে। কাছের বন্ধুর সঙ্গে খুব কম দেখা হয়- এই বিষয়টিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে মানুষ তার বন্ধুর সঙ্গে আনন্দপূর্ণ সময় কাটাতে পচ্ছন্দ করে।
মেয়েরা নিজেদের মধ্যে হাসি ঠাট্টা করে যেমন ভালো সময় কাটায়, চাইলে জীবনসঙ্গীর সঙ্গেও এমন সুন্দর সময় কাটানো যায়। এ প্রসঙ্গে বেশ কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করেছেন সাডা। নিজেদের মধ্যে খুব সুন্দর সময় কাটানোর জন্য নিজেদের ইচ্ছা ও চেষ্টার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। প্রতিদিনের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ, কেনাকাটা, লন্ড্রি এগুলো বাদ দিয়েও নিজেদের জন্য একান্ত কিছু সময় বের করুন, আপনার সঙ্গীর সঙ্গে বিশেষ একটি ডেটের ব্যবস্থা করুন, নতুন ও ভিন্নধর্মী কিছু করুন যা আপনাকে সামনের দিকে এগোতে সাহায্য করবে। অথবা আপনার জীবনসঙ্গী ও আপনার কাছের বন্ধু দুজনকেই একসঙ্গে সময় দেন। এতে করে আপনার সঙ্গী এবং বন্ধু সবাই এক অপরের সঙ্গে খুব ভালো একটা সময় কাটাতে পারবেন।
গবেষণায় আরো একটি বিষয় উঠে এসেছে যে, নারীরা বন্ধুদের তুলনায় শতকরা ৭০ ভাগ বেশি সময় রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যয় করে। কেন? সাডা বলেন, আমি মনে করি শুদ্ধ বন্ধুত্বের সম্পর্কে কিছু নারী দুর্ভাগ্যবশত তখন কম গুরুত্ব পেয়ে থাকে, যখন তার বন্ধু কারো সঙ্গে গভীর ভালোবাসায় জড়ায়। এটা আপাত দৃষ্টিতে খুব ভালো মনে হতে পারে। সম্পর্কের মধুচন্দ্রিমার সময়টাতে মানুষ এমনটা করে থাকে। তাই যদি ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটানো না যায়, তাহলে নিজের ওপর বা বন্ধু-বান্ধবের ওপর কঠোর হওয়া উচিত নয়। সব সসম্পর্ককে ভুলে যাওয়া চলবে না। বন্ধুত্ব, ছোটদের স্নেহ সবকিছুর জন্য সময় বরাদ্দ থাকা উচিত। বন্ধুর যেমন নিশ্চয়তা, বৈধতা জরুরি তেমনি জীবনসঙ্গীও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।

বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সুসংবাদ হচ্ছে- গবেষণায় দেখা গেছে ৫৫ এর বেশি বয়সের নারীদের বন্ধুত্বের গড় সময়সীমা ২৩ বছর। বন্ধুত্ব হলো এমন একটি বিষয় যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো গভীর হয়। সাডা আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে আছে তাদের তুলনায় যাদের যোগাযোগ নেই তারা হতাশায় ভোগে, তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয় এবং মৃত্যুহারও বেশি হয়।

শুদ্ধ বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জীবনে মাঝে মধ্যে নিজের জীবনসঙ্গীর চেয়েও একান্ত কাছের কাউকে দরকার হয়। এই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়, পরামর্শ দেয়, কোনো পরিস্থিতে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। এ সম্পর্ক আমাদের একাত্মতার অনুভূতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা দেয়। তথ্যসূত্র : টেন ডেইলি

Please follow and like us:
2