শুক্র. এপ্রি ১৯, ২০১৯

নানা আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষ বরণ

নানা আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষ বরণ

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নানা আয়োজনে গত রোববার বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে। ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ -প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা, যাতে অংশ নেয় নানা সাজে সজ্জিত নারী-পুরুষ ও শিশুরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধনের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে চারুকলা থেকে বের হয়ে শাহবাগ শিশুপার্ক ঘুরে এসে টিএসসি হয়ে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হয় এই শোভাযাত্রা। বাংলাদেশের এই মঙ্গল শোভাযাত্রা ইতোমধ্যেই ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এবারের শোভাযাত্রার সামনে র‌্যাবের গাড়ি বহর ছাড়াও পুলিশ ও স্কাউট দলের সদস্যরা ঘিরে রাখায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুযোগও ছিলো কম। মুখোশে রাজা-রাণীর পেছনে গাছের চূড়ায় পাখি আর পাখির ছানা আর প্যাঁচা এবং তাদের অনুসরণ করে হরিণ, বাঘ, বকসহ নানা কিছু ছিলো এই শোভাযাত্রায়। ওদিকে রমনার বটমূলেও যথারীতি ছিলো ছায়ানটের বর্ষবরণের ঐতিহ্যময় আয়োজন। ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’- এ প্রতিপাদ্যে ছায়ানটের এ আয়োজন শুরু হয় ভোর ছয়টায় এবং বরাবরের মতোই অসংখ্য মানুষ এ আয়োজন দেখতে সমবেত হয়েছিলো রমনায়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে দল এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের সকল কর্মের মধ্যদিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ করে যাবো। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেখেছিলেন। আর সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উপলক্ষে গত রোববার ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলা গালফ ক্লাবে আয়োজিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাষ্ট্রপ্রধান সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তা ও তাদের পরিবাররের সদস্যদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর পতœী রাশিদা খানম, পুত্র রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক এমপি এবং বঙ্গভবনের কর্মকর্তারাসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঢাকা লেডিস ক্লাব এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সন্ধ্যায় গলফ ক্লাবে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি হামিদ সশস্ত্র বাহিনীর পারফর্মার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা নৈশভোজে যোগ দেন।
এদিকে, ভুটানের সফররত প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংও গত রোববার রাজধানীতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি সকালে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরের ধারা ও চ্যানেল আই টেলিভিশন চ্যানেলের যৌথ আয়োজনে নববর্ষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। লোটে শেরিং আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার পরিবেশনায় মুগ্ধ হন। শেরিং নেপালী ভাষার একটি গানসহ বিভিন্ন সঙ্গীত উপভোগ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বাঙালির বৃহত্তম উৎসব পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে তাঁর সন্তোষের কথা প্রকাশ করে বাংলা ভাষায় বলেন, আমি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুভ নববর্ষে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এছাড়া, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ জায়গায় উৎসবমূখর পরিবেশে নানা আয়োজনে নববর্ষকে স্বাগত জানায় মানুষ।

Please follow and like us:
0