নকলের দায়ে সাধারণত পাঁচ-দশমিনিটের জন্য খাতা আটকে রেখে দিতাম

নকলের দায়ে সাধারণত পাঁচ-দশমিনিটের জন্য খাতা আটকে রেখে দিতাম

মিসেস হামিদা আলী : সাবেক অধ্যক্ষ- ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ- সাউথপয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ।

নকলের প্রচলিত শাস্তি- খাতা আটক রেখে পাঁচ বা দশ মিনিটের জন্য পরীক্ষা স্থগিত রাখা। এটা প্রথমবারের জন্য। এরপরও যদি সে একই অপরাধ করে তাহলে বড় জোর তার ঐ পরীক্ষাটি স্থগিত বা বাতিল করা যায়। এজন্য অভিভাককে ডেকে শিক্ষার্থী বহিস্কার বা সম্মানীত অভিভাবককে
ভৎসনা করার কোন নিয়ম নেই। স্বাক্ষাৎকার- নজরুল ইসলাম

আমি অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে মোবাইল ততটা সহজলভ্য ছিলনা বিধায় তখন শিক্ষার্থিরা মোবাইল ব্যবহার করবে এবং এই ক্ষুদে মুঠোফোনের মাধ্যমে নকল করবে, এমনটি ধারনায়ও ছিলনা। যদিও এখানে মোবাইল মূখ্য নয়, মূখ্য বিষয় বা অপরাধ মূলতঃ পরীক্ষায় ‘নকল’ করছিল। যার প্রচলিত শাস্তি- খাতা আটক রেখে পাঁচ বা দশ মিনিটের জন্য পরীক্ষা স্থগিত রাখা। এটা প্রথমবারের জন্য। এরপরও যদি সে একই অপরাধ করে তাহলে বড় জোর তার ঐ পরীক্ষাটি স্থগিত বা বাতিল করা যায়। এজন্য অভিভাককে ডেকে (আপনাদের/ গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে) শিক্ষার্থী বহিস্কার বা সম্মানীত অভিভাবককে ভৎসনা করার কোন নিয়ম নেই।
এ ব্যাপারে প্রসঙ্গত আমি বলবো, আসলে আমাদেরকে সমস্যার মূলে প্রবেশ করতে হবে। মূল সমস্যা হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। আমার মনে আছে- ভিকারুননিসায় অ্যাসেমব্লিতে প্রতিদিন আমি সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠার উপর পরামর্শমূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতাম। এসব চর্চা শুধু মুখে নয়, বাস্তবেই থাকতে হবে। পাশাপাশি সন্তানকে বিশেষকরে শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রাথতে হবে। মূলতঃ মোবাইল, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট থেকে। যদিও বলবেন প্রযুক্তির যুগে এটি অসম্ভব! বিশেষকরে দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রযুক্তির শিক্ষা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা ঠিক হবেনা জাতীয় যুক্তি অবশ্যই ফেলনা নয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগপদ শিক্ষা প্রত্যেককে অবশ্যই দিতে হবে সত্যই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সবকিছুরই একটি বয়স রয়েছে, সেটা কেন আমরা হালকা ভাবে নিব? সর্বনাশের শুরুটা হয় বাচ্চার কান্না থামাতে, তাকে খাওয়াতে আমরা মোবাইল গেম অন করে দিচ্ছি। অথচ তার বয়স মাত্র ২ কি ৩ বছর! আর পড়াশুনার জন্য একান্তই ইন্টারনেটের প্রয়োজন হলে সেটা শ্রেণীকক্ষে বা বাসায়ও একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতে পারে।
বাচ্চাদের প্রযুক্তির ব্যবহারে নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে হয়তো বলবেন- গার্ড দিয়ে বা নিয়ন্ত্রন করে কতক্ষন! তাই এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে ভাল-মন্দ সম্পর্কে সচেতন করে তারপর তাদেরকে মোবাইল ইন্টারনেট দেয়া যেতে পারে। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে, নিশিদ্ধ বিষয়গুলো যখন বাচ্চার হাতের কাছে থাকবে, তখন কাউন্সিলিং বা পরামর্শ ধোঁপে টেকেনা। বিশেষকরে সন্তানকে গভির রাত পর্যন্ত একাকি বদ্ধ কক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়গুলোতে আমাদেরকে ভাবতে হবে। তাই সাবধানতা স্বরুপ আপনাকে বয়স অনুপাতে নিয়ন্ত্রন করেই এসব করতে হবে। নিয়ন্ত্রন থাকলে আজ অরিত্রি হয়তো মুঠোফোন বহন করতোনা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষও এতটা শক্ত অবস্থানে যেতনা। এখানে নকলের অপরাধের পাশাপাশি মোবাইল বহন করার নিশেধাজ্ঞার বিষয়টিও সামনে চলে আসে। ফলে সব মিলিয়ে সাধারণ বিষয়টিও অসাধারণ হয়ে সামনে চলে এসেছে কর্তৃপক্ষের। যদিও যেকোন অপরাধেই বাচ্চাদের সামনে অভিভাবককে হেনস্তা করার মত গর্হিত পদক্ষেপ আমাদের শিক্ষক সমাজকে অন্তত মানায়না। বিশেষকরে এক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠানের দায়দায়িত্ব আরো অনেক বেশি। এসব ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মান ও বাচ্চার মনস্তাত্বিক বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিকী ছবি

Please follow and like us:
0