Published On: রবিবার ১৩ মে, ২০১৮

ধান ফলিয়ে বিপদে হাওরের কৃষক

বিশেষ সংবাদদাতা : বেশি বা কম সুদের সব ঋণের শর্ত ছিল, বৈশাখেই টাকা শোধ করতে হবে। এখন আর কেউ ঋণের কিস্তি ধানে ফেরত নেয় না। ধান নাও বা টাকা নাও, ফেরত হবে নগদা নগদ টাকায়। এবার ধান কাটার শ্রমিক বা কামলারাও নগদ টাকা ছাড়া কাজে হাত লাগাননি। অনেক ক্ষেত্রে লেবার কনট্রাকটরদের (দালাল) আগাম টাকা দিয়ে শ্রমিক সংগ্রহে পাঠাতে হয়েছে, ধারের ওপর ধার করতে হয়েছে আশার দমটা টিকিয়ে রাখার জন্য। পোকা-ভাইরাসে কিছু ধান মার খেলেও মোটের ওপর ফসল বেঁচে গেছে। ট্রাকে ধান নিয়ে সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, জামালপুর ফিরতে বছর দুই আগে যা খরচ আর সময় লাগত, এখন লাগে তার প্রায় তিন গুণÑআর সময়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তা ছাড়া ধানের বাজারদর পড়ছে তো পড়ছেই। চাঁদপুরের মিলমালিক নকিব চৌধুরী বলেছেন, ‘বাজারে প্রচুর আমদানি করা চাল রয়েছে। আমাদের চালের চাহিদা নেই। এজন্য আমরা ধান কিনছি না। গত বছর বন্যা আর ফসলহানির কারণে ‘যেখানে পাও, যা পাও’ নীতির ভিত্তিতে চাল আমদানির নীতিমালা শিথিল হওয়ায় আমদানি চালের মজুত নিশ্চয় বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র দিয়ে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, তিন মাসে চাল আমদানির এলসি বেড়েছে ১৮৫ গুণ; এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮৫ গুণ বা ১৮৩৯২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বরে চাল আমদানির জন্য মাত্র ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। দুই দফা বন্যায় খাদ্যসংকট এড়াতে সরকার শুল্ক কমিয়ে আনার পর চাল আমদানি বেড়েই চলেছে। সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়েই চাল আমদানি বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার আমদানি-সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ১ হাজার ৪৭০ কোটি ৩১ লাখ (১৪.৭০ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৩২ কোটি ৯১ লাখ ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯০৬৩ শতাংশ বেশি। আমদানির লাগাম সময় মতো টানতে না পারায় কৃষকেরা পড়েছেন ফাঁপরে!
কবে ধান কিনবে সরকার?
গত ৮ এপ্রিল চলতি বছরে কৃষকদের কাছ থেকে ৩৮ টাকা কেজিতে চাল ও ২৬ টাকা কেজিতে ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। অর্থ, বাণিজ্য আর খাদ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই বৈঠকে বোরো আতপ চাল কেজিপ্রতি ৩৭ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত হয়; ২ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান-চাল কেনার কথা। তবে ১২ মে এই লেখার সময় পর্যন্ত চাল দূরে থাক, ধান কেনার কোনো পাঁয়তারা কোথাও চোখে পড়েনি। তা ছাড়া নয় লাখ মেট্রিক টনের মধ্যে মাত্র এক লাখ মেট্রিক টন থাকবে আতপ চাল। হাওরে সবই আতপ চাল, তার মানে হাওরের হিস্যা মাত্র এক লাখ টন। ধান কেনা হবে দেড় লাখ মেট্রিক টন। তবে তার কতটা হাওরের, সেটাও স্পস্ট করা প্রয়োজন।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Videos