শনি. জানু ১৮, ২০২০

ধর্ষককে যা করতেন, তা করা হলো কুশপুত্তলিকায়

ধর্ষককে যা করতেন, তা করা হলো কুশপুত্তলিকায়

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুশপুত্তলিকা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন একজন। যে যার মতো সেটিকে আঘাত করছেন। কেউ লাথি, কেউবা হাত দিয়ে মারছেন। আবার কেউ কেউ হাতে কাট এবং বাঁশ দিয়ে কুশপুত্তলিকাটিকে আঘাত করছেন। অনেকে থুথু ছিটাচ্ছেন।
প্রতীকী এই কুশপুত্তলিকাকে ধর্ষক হিসেবে ঘৃণা প্রকাশ করে এসব কার্যক্রম করা হয়। ব্যতিক্রমী এ প্রতিবাদের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। এখানে শুরুতে দেখানো হয়, একজন নারীকে ধর্ষণ করেছে এক যুবক। এরপর কয়েকজন ধর্ষক যুবককে আটক করে। পরে তাকে শাস্তি দেওয়া শুরু হয়। স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী প্রতীকী ধর্ষককে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। পরে একটি কুশপুত্তলিকা এনে সেটিকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা চাইলে ধর্ষকের উপর ইচ্ছামত ঘৃণা প্রকাশ করুন। তখন উপস্থিত অনেকে ধর্ষককে ঘৃণা প্রকাশ করতে গিয়ে কুশপুত্তলিকাকে লাথি, হাত দিয়ে মারা, কাট, বাঁশ দিয়ে আঘাত করেন। এরপর আয়োজকরা সবার কাছে সাদা কাগজসহ একটি খাম দেন। সেখানে ধর্ষককে কি শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে মতামত চান। অনেকে তাদের মতামত লিখে দেন। থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের এ আয়োজন দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে সাধুবাদ জানান এবং ধর্ষণকারীদের কঠোর শাস্তির বিধানের গুরুত্বারোপ করেন। শিপঙ্কর শীল নামে এক দর্শক বলেন, তাদের থিম অসাধারণ। কীভাবে নারীকে ধর্ষণ করা হয়, সে বিষটি ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তারা যে শাস্তি দেখিয়েছে, তা হয়তো আমাদের সমাজে প্রচলিত নয়। কিন্তু ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির সঙ্গে সামাজিকভাবে ঘৃণা করার বিষয়টি সামনে আনার সময় হয়েছে। না হলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব না।
চার শিক্ষার্থীর অনশন, প্রতিবাদ আল্পনাতেও : ধর্ষণের খবর পাওয়ার পরপরই রোববার রাত সাড়ে তিনটা থেকে অনশনে বসেন দর্শন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. সিফাতুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। পরদিন ধর্ষণের প্রতিবাদে ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে ওঠার মধ্যে সিফাতের সঙ্গে আরও তিন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন; তাদের সেই কর্মসূচি গতকাল মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। অনশনে থাকা অন্য তিনজন হলেন মৃত্তিকা-পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল, তথ্য ও প্রযুক্তি ইনস্টিউটের একই বর্ষের ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান নাফিজ এবং ইতিহাস বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. আব্দুর রহমান।
সিফাতুল ইসলাম বলেন, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতাই বারবার ধর্ষণের কারণ। ধর্ষণের যদি উপযুক্ত বিচার হতো তাহলে বারবার এতো ধর্ষণ হতো না। একমাত্র কঠোর শাস্তিই পারে ধর্ষণকে রোধ করতে। এছাড়া ধর্ষকদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে না পারাও ধর্ষণের অন্যতম কারণ।” অনশনে তারা যেসব দাবির প্ল্যাকার্ড নিয়ে বসেছেন সেগুলো হল- অবিলম্বে ধর্ষককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা; সংশ্লিষ্ট ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করা; ধর্ষণের বিরুদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং দ্রুত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা।
এদিকে রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত শিক্ষার্থীদের মঙ্গলবার সকালে দেখে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ সামাদ। তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন।
বিচারের দাবিতে আলপনা : ছাত্রীর ধর্ষণে জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলপনা আঁকছেন শিক্ষার্থীরা। চারুকলাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা রঙ-তুলিতে প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরছেন। রাজু ভাস্কর্য থেকে রোকেয়া হলের গেট পর্যন্ত এই প্রতিবাদী আলপনা আঁকা হবে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছেন। সকালে রাজু ভাস্কর্যের পাশে প্রতিবাদ জানান শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে রোকেয়া হলের সামনেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হন।

Please follow and like us:
3