বুধ. মার্চ ২০, ২০১৯

দেশে আমদানি বাড়লেও বাড়ছে না শুল্ক আদায়

দেশে আমদানি বাড়লেও বাড়ছে না শুল্ক আদায়

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বাড়লেও সে অনুপাতে শুল্ক আদায়ের কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি হয়নি। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বেড়েছে কিনা তা প্রশ্ন উঠেছে। অর্থাৎ অধিক শুল্কের পণ্যকে কম শুল্কের পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তা বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে কিনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ঠেকাতে রাজস্ব কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রধান। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। তার বিপরীতে শুল্ক স্টেশনগুলো আদায় করতে পেরেছে ২৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শুল্ক আদায় কমেছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ শতাংশের সামান্য বেশি। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে শুল্ক আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। অবশ্য পূর্বের অর্থবছরের ওই পরিসংখ্যান বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির এতো ব্যবধান কিছুটা বিস্ময়েরও জন্ম দিয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আদায়ের চিত্রে খুশি নয় অর্থ মন্ত্রণালয়ও। ইতোমধ্যে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল রাজস্ব আদায়ে কম প্রবৃদ্ধির কারণ এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চেয়েছেন।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মাধ্যমে আমদানি শুল্কের প্রায় ৮ শতাংশই আদায় হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে শুল্ক আদায় বেড়েছে মাত্র ৭ শতাংশ। ওই সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের ২২ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা কম শুল্ক আদায় হয়েছে। তাছাড়া বেনাপোল শুল্ক স্টেশনেও আদায় বেড়েছে ৮ শতাংশেরও কম। পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তো নয়, কয়েকটি মাঠ পর্যায়ের অফিসে উল্টো গত বছরের একই সময়ের চেয়েও শুল্ক আদায় কমে গেছে। ওই তালিকায় রয়েছে পানগাঁও শুল্ক স্টেশন, ঢাকা বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট ও রাজশাহী বন্ড কমিশনারেট।
সূত্র আরো জানায়, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে অতিসম্প্রতি আয়কর শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সভায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করে এনবিআরের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ জানান, উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি আগে যে হারে আমদানি হতো, গত কয়েক মাসে তা কম হারে আমদানি হয়েছে। ওই সময়ে নিম্ন শুল্ক হারের পণ্য বিশেষত সিমেন্টের ক্লিংকার, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন ভোগ্য পণ্য কিংবা শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি হয়েছে বেশি।
এদিকে এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজস্ব আদায়ে কিছুটা গতি মন্থরতা থাকে-এটি ঠিক। কিন্তু শুল্ক তথা রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি এতো কম হওয়ার যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাজস্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অফিসে অপেক্ষাকৃত যোগ্য কর্মকর্তার পদায়ন না হওয়া এর পেছনে একটি কারণ হতে পারে।

Please follow and like us:
2